ইসতিয়াক মাহমুদ মানিক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনের পর দেশে ফিরছেন। তিনি ২৪ ডিসেম্বর লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট (বিজি-২০২০) ধরেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। দেশে পৌঁছার সময় তিনি ২৫ ডিসেম্বর, সকাল ১১:৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। তাঁকে বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হচ্ছে। সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য ৩০০ ফিটে প্রস্তুত করা হচ্ছে মঞ্চ। ইতোমধ্যে সংবর্ধনার অনুমতি পাওয়া গিয়েছে।
সরকারের পাশাপাশি দলীয়ভাবে তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের পর তৎকালীন সরকার তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে। ২০০৮ সালে তাঁকে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার নামে যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর নতুন পরিবেশ-পরিস্থিতিতে দেশে ফিরছেন বিএনপির স্বপ্নপুরুষ তারেক রহমান।
সংবর্ধনা ও প্রস্তুতি
-
বিমানবন্দর ও খিলক্ষেতে ৩০০ ফিট এলাকা জুড়ে গণসংবর্ধনা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
-
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার থেকে ইতোমধ্যে অনুমতিও পাওয়া গেছে।
-
দলের পক্ষ থেকে সর্বাধিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
-
প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, এবং তাঁর নেতৃত্বে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সসহ একাধিক টিম কাজ করবে।
-
বিমানবন্দর থেকে খিলক্ষেত, বসুন্ধরা ও গুলশান পর্যন্ত হাজার হাজার পুলিশ সদস্য, সোয়াট টিম, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে।
সফরসঙ্গী ও বিশেষ আয়োজন
-
তারেক রহমানের সঙ্গে থাকবেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, মিডিয়া টিমের প্রধান আবু আবদুল্লাহ সালেহ, পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আবদুর রহমান সানি এবং তাবাসসুম ফারহানা।
-
তার প্রিয় পোষা বিড়াল ‘জেবু’ ও সঙ্গে ফিরছে।
-
বিমানবন্দর থেকে সরাসরি খিলক্ষেতে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং পরে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর মা খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।
ভোটার হওয়ার প্রস্তুতি
-
দেশে ফিরে ২৭ ডিসেম্বর তারেক রহমান ভোটার হবেন।
-
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ২৫ তারিখে দেশে পৌঁছানোর পর দুই দিনের মধ্যে ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
যাতায়াত ও পরিবহন
-
নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সুবিধার্থে ১০টি রুটে বিশেষ ট্রেন চালানো হবে।
-
এছাড়া প্রয়োজনমতো নিয়মিত চলাচলকারী ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে।
-
বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে নিম্নরূপ রুটে:
-
কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার
-
জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা-জামালপুর
-
টাঙ্গাইল-ঢাকা-টাঙ্গাইল
-
ভৈরববাজার-নরসিংদী-ঢাকা-নরসিংদী-ভৈরববাজার
-
জয়দেবপুর-ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-জয়দেবপুর (গাজীপুর)
-
পঞ্চগড়-ঢাকা-পঞ্চগড়
-
খুলনা-ঢাকা-খুলনা
-
চাটমোহর-ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-চাটমোহর
-
রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী
-
যশোর-ঢাকা-যশোর
-
রাজনৈতিক প্রভাব
-
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির ঐক্য আরও সুসংহত করবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করবে।
-
ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনী প্রার্থী ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মনোবল বাড়াতে তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
-
১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে দলের তৃণমূল নেতাদের প্রেরণা ও উৎসাহ যোগাবে।
বিএনপি এবং সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক করতে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীরা রাতদিন নিরলস প্রস্তুতি চালাচ্ছেন, যাতে ২৫ ডিসেম্বরের দিন সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকে।


