অনলাইন প্রতিবেদক

ঢাকা: প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, তরুণদের নেতৃত্বেই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। তারাই নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শক্তি। আসন্ন গণভোটে কোনো প্রার্থী না থাকলেও এই গণভোট জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে তরুণদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে।
বুধবার (তারিখ) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা’ শীর্ষক নির্বাচনী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিহত করতে ফ্যাসিস্ট রিজিওম যে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করেছিল, সেগুলোর কিছু এখনো তাদের হাতে রয়েছে। পাশাপাশি পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে অবস্থান করে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। পতিত স্বৈরাচারী দলের নেত্রী ও তার সহযোগীরা নির্বাচন বানচালের মাধ্যমে দেশকে বিপদজনক অবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থের বিপক্ষে গিয়ে একটি বিশেষ দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা দুঃখজনক। যদিও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বড় কোনো শঙ্কা নেই, তবে নির্বাচন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল, সাধারণ জনগণ ও বিশেষ করে তরুণদের সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আসন্ন নির্বাচন যদি গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ভেস্তে যাবে এবং জনআকাঙ্ক্ষা ব্যর্থ হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন সফল করতে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যত বাধা-বিপত্তিই আসুক না কেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হতেই হবে—নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
নির্বাচনী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ‘তরুণ ভোটাররাই আসন্ন গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)-এর বিতার্কিকদের পরাজিত করে তেজগাঁও কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন।
প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল, সাংবাদিক মো. আতিকুর রহমান এবং অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌসী। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।


