অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর – বেকারত্বের বৃদ্ধি, দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মবনির্ভর প্রবণতা দেশের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শনিবার অনুষ্ঠিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য মুক্ত আলোচনা: তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ’ শীর্ষক সংলাপে তারা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের ৪.৩৬ শতাংশ বেকারত্বের হার সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে ভয়াবহ মনে হলেও এটি বাস্তব চিত্রের পূর্ণ প্রতিফলন নয়। তিনি বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধুমাত্র পরিসংখ্যান নয়, কাঠামোগত সংস্কার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।
সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের তরুণ সমাজই জুলাই-আগস্টের পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ তরুণ হলেও শিক্ষিত বেকারত্ব বেড়ে গেছে এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, মবনির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতি, জ্বালানি সংকট ও দক্ষ জনশক্তির অভাব শিল্প খাতের বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি এলডিসি উত্তরণ নিয়ে অতিরিক্ত আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন।
অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ পারভেজ ইমদাদ বলেন, প্রবাসী আয় ও তৈরি পোশাক খাত অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলেও তা যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর খাত বিকশিত করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. সায়েমা হক বিদিশা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কামরুল আহসান শিক্ষিত বেকারত্ব ও দক্ষতার ঘাটতির দিকে নজর দেন। তারা বলেন, দক্ষতা থাকলে স্বল্প শিক্ষিত তরুণও ভালো আয় করতে সক্ষম।
সিপিবি ও গণঅধিকার পরিষদের প্রতিনিধি, রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের কো-অর্ডিনেটরসহ অন্যান্য বক্তারা তরুণদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিনিয়োগ, সঠিক পরিকল্পনা, শিক্ষার উন্নয়ন এবং নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, প্রতিবছর সাত লাখ গ্র্যাজুয়েট শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও চাকরি পাচ্ছে মাত্র এক লাখ। এই পরিস্থিতিই তরুণদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।


