২০৩১ সালেই সম্ভাব্য সংকট
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে বলা হয়, দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত দ্রুত কমছে, অন্যদিকে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পাচ্ছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানি–নির্ভর জ্বালানি যেমন এলএনজি, কয়লা ও জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যাওয়ায় ব্যয়ও ক্রমশ বাড়ছে। এসব কারণে ২০৩১ সাল নাগাদ চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
ধারাবাহিক নীতি কাঠামোর দাবি
ব্যবসায়ীরা মনে করেন, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ধারাবাহিক ও স্থিতিশীল নীতি কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বারবার নীতি পরিবর্তন, অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতা বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে। তাঁদের দাবি, আগামী সরকারকে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ, প্রণোদনা এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
নতুন উৎস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর
বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং বড় পরিসরে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি—বিশেষ করে সৌর ও বায়ু শক্তির প্রকল্পগুলোকে ত্বরান্বিত করলে ভবিষ্যৎ সংকট অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব।
শিল্প ও অর্থনীতিতে প্রভাব
শিল্প মালিকদের মতে, স্থায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে ব্যর্থ হলে রপ্তানি খাতসহ বড় শিল্পগুলো উৎপাদনে মারাত্মক ব্যাঘাতের মুখে পড়বে। তাঁরা মনে করেন, জ্বালানি খাতের টেকসই পরিকল্পনা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা বলেন, আগামী সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত জ্বালানি খাতকে একটি দীর্ঘমেয়াদি নীতি ও বিনিয়োগ কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসা। এখনই পরিকল্পনা শুরু না করলে ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ঝুঁকিতে পড়বে।