অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা, মঙ্গলবার: দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ১৮০ দিনের বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ পরিবারের জন্য বিশেষ উদ্যোগ
কর্মসূচির আওতায় ‘জুলাই বিপ্লবে’ শহীদদের সন্তান এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগকে সামাজিক ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষানীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গুরুত্ব
সভায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘোষিত ইশতেহার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষা খাতের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা খাতে প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নই হবে অগ্রাধিকার।
আধুনিক শিক্ষা উদ্যোগ
ঘোষিত কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হলো:
- ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ বাস্তবায়ন
- মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ
- বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা
- সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা
- ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি
এছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ঋণ সুবিধা এবং হাফেজে কুরআনদের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিনামূল্যে ড্রেস ও কেডস বিতরণ
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস বিতরণ করা হবে। পরবর্তীতে প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থীর মধ্যে এ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সুবিধা
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণের জট দূর করতে একাধিক শিফটে প্রশিক্ষণ চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয়করণকৃত ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সি শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
একইসঙ্গে আগামী এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক থেকে কলেজ পর্যায়ের সব শিক্ষকের হাতে ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সহশিক্ষা কার্যক্রমে জোর
শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উপজেলা পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড চালু এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বিতর্ক ক্লাব গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বাস্তবায়নে আহ্বান
শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই কর্মসূচি দেশের মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে।


