
বিশেষ প্রতিবেদক : জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পদ্ধতি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস জানান, জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation – PR) পদ্ধতিতে। এই পদ্ধতিতে রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় পর্যায়ে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক ভিত্তিতে আসন পাবে, যা সংসদে জনগণের বহুমাত্রিক মতামতের প্রতিফলন ঘটাবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই ব্যবস্থা রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্তি ও ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। কোনো দলই আর সম্পূর্ণভাবে এককভাবে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে থাকবে না; বরং জনগণের ভোটের প্রতিফলন অনুযায়ী ক্ষমতা বণ্টন হবে।”
এর আগে আজ সকালেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে বসে। বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও কাঠামো অনুমোদন করা হয়।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্বপালন করবেন। পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে।
সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
ভাষণের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করা হয়। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর শেষে এটি ইতিমধ্যে গেজেট নোটিফিকেশন করার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা।
সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে ভাষণ, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক।


