নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। একাধিক আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। সোমবার এসব আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
যেসব আসনের ফল চ্যালেঞ্জ
সর্বশেষ চারটি আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। আসনগুলো হলো—
-
রাজশাহী-১
-
কুড়িগ্রাম-২
-
রংপুর-৬
-
রংপুর-৪
আবেদনকারীরা হলেন—
-
কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ
-
রংপুর-৬ আসনে বিএনপির মো. সাইফুল ইসলাম
-
রংপুর-৪ আসনে বিএনপির মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা
-
রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরীফ উদ্দিন
তাদের দাবি, নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির কারণে প্রকৃত ফলাফল প্রতিফলিত হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট আসনের ফল বাতিল বা পুনঃগণনার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুনানি হবে যে বেঞ্চে
আবেদনগুলো শুনানির জন্য উঠবে বাংলাদেশ হাইকোর্ট-এর বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চে। সোমবার এসব আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে যেসব আবেদন গ্রহণ
রোববার আরও দুটি আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। সেগুলো হলো—
-
ডি এম ডি জিয়াউর (আসন তথ্য প্রকাশিত হয়নি)
-
পাবনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান হাবিব
এর আগে বৃহস্পতিবার চারটি পৃথক আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়। আসনগুলো হলো—
-
শেরপুর-1
-
ঢাকা-৬
-
ঢাকা-৭
-
গাইবান্ধা-৪
আবেদনকারী প্রার্থীরা হলেন—
-
শেরপুর-১ আসনে বিএনপির সানসিলা জেবরিন
-
ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের মো. আবদুল মান্নান
-
ঢাকা-৭ আসনে জামায়াতের মো. এনায়াত উল্লাহ
-
গাইবান্ধা-৪ আসনে জামায়াতের মো. আবদুর রহিম সরকার
রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
একাধিক আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে ধারাবাহিক আইনি চ্যালেঞ্জ ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের সমর্থকেরা বলছেন, তারা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ হিসেবে। আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই এখন নির্ভর করছে এসব আসনের ভবিষ্যৎ।
কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ?
হাইকোর্ট যদি আবেদনগুলো প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করে রুল জারি করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে জবাব দিতে হবে। প্রয়োজন হলে আদালত ভোট পুনঃগণনা, তদন্ত বা ফলাফল স্থগিতের মতো নির্দেশনাও দিতে পারেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে এই আইনি প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


