বাসস

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি – দেশের কর জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং অভ্যন্তরীণ ও বহির্বাণিজ্যকে সহায়ক করনীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের টাস্কফোর্স প্রতিবেদনের কপি প্রধান উপদেষ্টার কাছে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের বিদ্যমান কর কাঠামো জটিল, অদক্ষ এবং পরোক্ষ করের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। এতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন। ‘উন্নয়নের জন্য করনীতি: কর ব্যবস্থার পুনর্গঠনে সংস্কারমূলক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে মোট ৫৫টি নীতিগত বিষয় চিহ্নিত করে সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এছাড়া, বর্তমান ৩০:৭০ অনুপাতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর সমন্বয় ৫০:৫০-এ উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটি কর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, সহজ কর কাঠামো, প্রণোদনা পুনর্গঠন, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট এবং বাণিজ্য করের পরিবর্তে দেশীয় করের দিকে কৌশলগত পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছে। রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে বিকল্প পণ্যের সুরক্ষা সমান করার পাশাপাশি ভ্যাট ব্যবস্থায় একক হারের প্রয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে সময় খুবই কম। আমরা এসব নীতির বাস্তবায়নের পথচলা শুরু করতে চাই। এ নীতিগুলো বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব আদায়ের খাত ও পদ্ধতি আরও স্পষ্ট হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আসবে।”
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এই প্রতিবেদন আমাদের জন্য একটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির পাশাপাশি এ খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”
কমিটির প্রধান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, “গত এক দশকে আমাদের রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল হয়ে গেছে। এসব সংস্কার ছাড়া রাজস্ব আদায়ের পরিসর বাড়ানো কঠিন। দ্রুত বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান জানান, “প্রতিবেদন বিদ্যমান সংকটগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেছে এবং সেগুলো নিরসনের পথনির্দেশ দিয়েছে।”


