অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রাম, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক ও কর্মচারী সংগঠনগুলো নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে বুধবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে।
বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন মঙ্গলবার দুপুরে বন্দর এলাকায় আয়োজিত এক অবরোধ কর্মসূচিতে জানান, নৌ-উপদেষ্টার হুমকি, শ্রমিকদের বদলি এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রেক্ষিতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।”
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। এর ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের পণ্য আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকদের মূল দাবি হলো:
-
এনসিটি জেটি বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়া
-
বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ
-
আন্দোলন কেন্দ্র করে দেওয়া সব বদলির আদেশ বাতিল
বর্তমানে এনসিটি, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং জেনারেল কার্গো বার্থসহ সব টার্মিনালেই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। স্কপের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল জানান, কর্মবিরতির কারণে কনটেইনার ও সাধারণ পণ্য ওঠানামা সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ায় বন্দরের কার্যক্রম স্থবির হয়েছে।
আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বন্দর অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়।
অপরদিকে, চার দিন ধরে জাহাজ জেটিতে অপেক্ষমাণ থাকায় এবং পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিজিএমইএ সহসভাপতি সেলিমুর রহমান জানান, অচলাবস্থার কারণে আমদানি ব্যয় বাড়ছে এবং পোশাক খাতের রফতানি শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের এই আন্দোলন দেশের সামগ্রিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।


