শোবিজ ডেস্ক

মুম্বাই: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং ব্যক্তিত্বের অধিকার (Personality Rights) সুরক্ষার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি Punjab Kings-এর সহ-মালিক Preity Zinta। ডিপফেক ভিডিও, বিকৃত ছবি এবং ভুয়া এআই চ্যাটবটের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় ও ভাবমূর্তি অপব্যবহারের অভিযোগে গুগল, মেটাসহ একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি পেয়েছেন তিনি।
ভারতের Bombay High Court-এর বিচারপতি Abhay Ahuja প্রীতি জিনতার বিশেষ আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি দায়েরের অনুমোদন দেন। আদালতে তাঁর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবী Rohan Kadam জানান, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রীতি জিনতার পরিচয় নকল করা হচ্ছে। এমনকি তাঁর নামে ভুয়া চ্যাটবট তৈরি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ঘটনাও ঘটছে।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিনেত্রীর নাম, কণ্ঠস্বর, ছবি ও অবয়ব তাঁর অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড তাঁর ব্যক্তিগত অধিকার, গোপনীয়তা এবং পেশাগত সুনামের জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের ব্যবহারকে Indian Copyright Act, 1957-এরও লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় গুগল, মেটা, এক্স, জিফি এবং গোড্যাডিসহ একাধিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্ল্যাটফর্মে ডিপফেক কনটেন্ট এবং ভুয়া এআই চ্যাটবটের বিস্তারের কারণে প্রীতি জিনতার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট অনেক প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর ভারতের বাইরে, তবে মামলায় বলা হয়েছে যে ক্ষতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে ভারতে, বিশেষ করে মুম্বাইয়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিত্বের অধিকার ও ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি একই ধরনের মামলায় Shilpa Shetty, Akshay Kumar, Suniel Shetty এবং Arijit Singh-এর মতো তারকারাও ব্যক্তিত্ব সুরক্ষার ক্ষেত্রে আদালতের স্বীকৃতি পেয়েছেন।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, প্রীতি জিনতার এই মামলা ভারতে এআই-সৃষ্ট ডিপফেক, ডিজিটাল পরিচয় চুরি এবং ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয় ও সুনাম সুরক্ষার ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এনেছে এই আইনি লড়াই।


