বাসস

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারা দেশে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম শুরু করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণভোট সম্পর্কে ভোটারদের অবহিত করতে প্রায় ৮০ লাখ ৪২ হাজার লিফলেট এবং মোট ৫৭ হাজারের বেশি ব্যানার প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসি।
শনিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গণভোটের প্রচারে জনবহুল স্থানে ১০ ফিট বাই ৪ ফিট এবং ভোটকেন্দ্রের সামনে ৩ ফিট বাই ৫ ফিট আকারের বিপুলসংখ্যক ব্যানার টানানো হবে।
ইসি সূত্র জানায়, গণভোটের প্রচারের জন্য বিজি প্রেসে প্রায় ৮০ লাখ ৪২ হাজার লিফলেট ছাপার কাজ চলছে। আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে এসব লিফলেট সারা দেশে বিতরণ শুরু হবে। পাশাপাশি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ও জনবহুল স্থানে প্রদর্শনের জন্য ১০ ফিট বাই ৪ ফিট আকারের প্রায় ১৫ হাজার বড় ব্যানার প্রস্তুত করা হচ্ছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রের সামনে স্থাপনের জন্য ৩ ফিট বাই ৫ ফিট আকারের আরও ৪২ হাজার ৭৬৬টি ব্যানার তৈরি করা হচ্ছে।
ইসির অনুমোদিত ব্যানার ও লিফলেটে গণভোটের প্রশ্ন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—
‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?’—এর বিপরীতে ভোটারদের জন্য ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট দেওয়ার অপশন রাখা হয়েছে।
গণভোটে চারটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় গঠন; আগামী জাতীয় সংসদকে দুই কক্ষবিশিষ্ট করা এবং দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন; সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ ৩০টি বিষয়ে ঐকমত্য বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা; এবং জুলাই জাতীয় সনদে উল্লিখিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই লিফলেট ও ব্যানার প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে এবং তারা সচেতনভাবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট প্রদানের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।


