নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গত কয়েক দিনের তুলনায় বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গতকাল তাঁর অবস্থার উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি বা অবনতি হয়নি। তবে তাঁর শারীরিক জটিলতার ওঠানামা অপ্রত্যাশিত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) সর্বোচ্চ সতর্কতায় তাঁর চিকিৎসা চলছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কয়েক দিন আগে তাঁকে ইলেক্টিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্টে নেওয়া হয়। ফুসফুসসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে বিশ্রাম দেওয়ার প্রয়োজনেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহাব উদ্দিন তালুকদার। চিকিৎসা কার্যক্রমের সমন্বয়ে হাসপাতালে উপস্থিত রয়েছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্রবধূ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান।
মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য জানান, বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে স্বাস্থ্যগতভাবে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন। চিকিৎসায় আশানুরূপ অগ্রগতি না হলেও ইতিবাচক দিক হলো—প্রদত্ত চিকিৎসা তাঁর শরীর ধীরগতিতে হলেও গ্রহণ করতে পারছে।
চিকিৎসকদের তথ্যমতে, গত ২৭ নভেম্বর তাঁর একিউট প্যানক্রিয়েটাইটিস ধরা পড়ে, যার নিবিড় চিকিৎসা এখনো চলছে। এ ছাড়া গুরুতর ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাল সংক্রমণের কারণে তাঁকে উন্নত অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিডনির কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিয়মিত ডায়ালাইসিসও দিতে হচ্ছে।
৮০ বছর বয়সি সাবেক প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন। সম্প্রতি গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় অবস্থানকালে তাঁর শ্বাসকষ্ট, কাশি, জ্বর ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিলে অবস্থার অবনতি হয়। পরে ২৩ নভেম্বর তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য মেডিকেল বোর্ড ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে আবারও দোয়া কামনা করা হয়েছে।


