অনলাইন ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল। আসনের মোট ১৮২টি ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে লুৎফুর রহমান কাজল পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪০৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৪ ভোট। ফলে ২৮ হাজার ৪১৩ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন বিএনপি প্রার্থী কাজল।
নির্বাচনের আগে দুই শক্তিশালী প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীকই জয় পায়। বিশেষ করে রামু ও ঈদগাঁও এলাকায় বিএনপির পক্ষে ব্যাপক ভোটার সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের এই আসনটি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে ভোটারদের।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলায় বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়। এতে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সব কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ ও ফলাফল সংগ্রহ সম্পন্ন হয়।
বিজয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কক্সবাজার শহরে বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে। ভোট শেষে কেন্দ্রভিত্তিক গণনা শেষে বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, সারাদেশের ফলাফল একত্র করে শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকায় এবার ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ৫০টি রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এবারের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়ন প্রশ্নে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়েছেন।


