অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল এক ঘটনার সাক্ষী হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রাম। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন তিনজন আইনপ্রণেতা, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিজয়ী হয়েছেন গহিরা গ্রামের তিন কৃতি সন্তান। তারা সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই গহিরা গ্রাম জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
তিন বিজয়ী সংসদ সদস্য
একই গ্রাম থেকে নির্বাচিত তিন সংসদ সদস্য হলেন—
-
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী
-
হুম্মাম কাদের চৌধুরী
-
সাঈদ আল নোমান
তাদের এই বিজয় চট্টগ্রাম অঞ্চলে দলীয় সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
রাউজান আসনে বড় জয়
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। তিনি পান ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট-এর প্রার্থী ইলিয়াছ নূরী, যিনি পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৪৬ ভোট। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. শাহাজাহান মঞ্জু পেয়েছেন ২২ হাজার ১১৮ ভোট।
রাঙ্গুনিয়ায় চাচা-ভাতিজার জয়গাঁথা
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি ১ লাখ ২৪২ ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন। তিনি যুদ্ধাপরাধ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাজনীতিক সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী-এর ছেলে। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম, যিনি পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৪৮৫ ভোট।
নগর আসনেও ধানের শীষের জয়
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সাঈদ আল নোমান। তিনি বিএনপির প্রয়াত জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান-এর ছেলে। বাবার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট।
গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ
একই গ্রামের তিন বাসিন্দার এই অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সাফল্যে স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। নির্বাচন ফল ঘোষণার পর থেকেই গ্রামে মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে উৎসব উদযাপন করছেন গ্রামবাসী। স্থানীয়দের আশা, জাতীয় পর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব গহিরা ও আশপাশের এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


