অনলাইন ডেস্ক

সরকার আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নজির স্থাপনের উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের সম্পদের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে।
প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্তি, ব্যাংক মুনাফা এবং বিনিয়োগের মূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেকের সম্পদ বেড়েছে, আবার অনুদান প্রদান বা ব্যয় নির্বাহের কারণে কারো কারো সম্পদ কমেছে।
সম্পদে শীর্ষ ও তলানিতে
-
তালিকার শীর্ষে আছেন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, যাঁর মোট সম্পদ ৯১ কোটি টাকার বেশি।
-
তলানিতে অবস্থান করছেন সাবেক উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম, যাঁর সম্পদ মাত্র ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।
প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পদ ২০২৪ সালে ছিল ১৪.০১ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ১৫.৬২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। বৃদ্ধি mainly সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, ব্যাংক আমানত ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত শেয়ারের কারণে। তবে তার স্ত্রী ড. আফরোজী ইউনূসের সম্পদ ২.১১ কোটি টাকার থেকে কমে ১.২৭ কোটি টাকায় এসেছে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পদ
-
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: ৭.১০ কোটি → ৭.১৬ কোটি টাকা
-
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ: ১৫.০৯ কোটি → ১৬.২২ কোটি টাকা
-
ড. আসিফ নজরুল: ১.৪৮ লাখ → ১.৬০ লাখ টাকা
-
আদিলুর রহমান খান: ৯৮ লাখ → ২.৫২ কোটি টাকা
-
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: ২.২৫ কোটি → ১.১২ কোটি টাকা (দানের কারণে হ্রাস)
-
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম: ২.৬১ কোটি → ২.৭৭ কোটি টাকা
-
ফরিদা আখতার: ৮১.২৮ লাখ → ১.০২ কোটি টাকা
অন্যান্য উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সম্পদও প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, লুৎফে সিদ্দিকী অবৈতনিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাই তাঁর কোনো বেতন বা ভাতা নেই।
লক্ষ্যযোগ্য বিষয়
প্রকাশিত সম্পদের হিসাব থেকে বোঝা যায়, সরকারি ও ব্যক্তিগত খাতে অর্জিত সম্পদে নানা ধরণের পরিবর্তন ঘটেছে। এটি দেশের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।


