অনলাইন ডেস্ক

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট অবিরাম বৃষ্টিপাতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কবলে পড়েছে ইন্দোনেশিয়া। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলমান এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে, এবং এখনো প্রায় ৫০০ মানুষ নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা এখনো বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, পাহাড়ি এলাকা ধসে পড়া ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, এখনও অনেক স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
তিন প্রদেশে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি
ইন্দোনেশিয়া সরকারের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়জনিত বন্যা তিনটি প্রদেশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এগুলো হলো—
-
আচেহ
-
উত্তর সুমাত্রা
-
পশ্চিম সুমাত্রা
এই প্রদেশগুলোর ঘরবাড়ি, সড়কপথ, সেতু এবং কৃষিজমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট প্রায় ১৪ লাখ বাসিন্দা দুর্যোগে প্রভাবিত হয়েছেন বলে সরকারি তথ্য থেকে জানা গেছে।
উদ্ধারকাজে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ
উদ্ধারকারী দলগুলো জানায়—
-
অনেক এলাকা পানির নিচে ডুবে থাকায় নৌযান ছাড়া প্রবেশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
-
পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের কারণে রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
-
বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় খাবার ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে।
মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিলেও সেখানে পানি, খাবার, ওষুধ এবং স্যানিটেশনের সংকট দেখা দিয়েছে।
সরকারি পদক্ষেপ
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করেছে। সৈন্য, নৌবাহিনী ও পুলিশসহ রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নামানো হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে ড্রোন, নৌযান এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দল ব্যবহার করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইন্দোনেশিয়ার এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।


