অনলাইন ডেস্ক

ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সমস্যায় পড়ছেন। নির্দিষ্ট সামাজিক ও শিক্ষাগত পরিবেশ থেকে উঠে এসে অনেকেই সহজে মিশতে না পারায় বিদেশমুখী হচ্ছেন, যা অনেকের মতে মেধা পাচারের ঝুঁকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে কিছু ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে দেশীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করার বিষয়টি উপেক্ষিত থাকছে বলেও মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসব সমস্যার সমাধানে সরকারের নীতিগত সহায়তা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষাবিদরা।
বৃহস্পতিবার ডেইলি সানের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড, লোকাল রুটস’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীতে ডেইলি সান কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, অর্জন, অর্থায়ন এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ডেইলি সানের সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস এবং সঞ্চালনা করেন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তাসভীর উল ইসলাম। এতে দেশের প্রায় ২০টি স্বনামধন্য ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের প্রিন্সিপাল, ভাইস প্রিন্সিপাল, শিক্ষা পরামর্শক, ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অন্তত ১০ হাজার শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যান। তাঁদের অনেকেই পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে আসেন, যা ইতিবাচক দিক। তিনি বলেন, বিদেশে পড়াশোনাকে শুধু মেধা পাচার হিসেবে না দেখে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বা ‘ব্রেইন গেইন’ হিসেবেও দেখা উচিত। বিদেশে পড়াশোনা শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের খাপ খাইয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগে। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের পরিবেশ ও পাঠ্যক্রম ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের উপযোগী করার চেষ্টা করছে।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার তাহনি ইয়াসমিন বলেন, দেশে বর্তমানে দুই শতাধিক ইংরেজি মাধ্যম স্কুল রয়েছে। ব্রিটিশ কাউন্সিল শুধু পরীক্ষা গ্রহণই করে না, বরং আন্তর্জাতিক মানের কারিকুলাম অনুসরণে স্কুলগুলোকে সহায়তা করে। পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
তিনি বলেন, অনেক ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একটি ভবনের মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকায় ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা সহশিক্ষা কার্যক্রমের পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে না। ফলে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ভিপি মো. ওয়াহেদ ইবনে শাহেদ, স্যার জন উইলসন স্কুলের প্রিন্সিপাল সাবরিনা শহীদ, অক্সফোর্ড একিউএ বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. শাহিন রেজা এবং ব্রিট একাডেমির প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।


