বিশেষ প্রতিবেদন

সাম্প্রতিক BRAC Institute of Governance and Development (BIGD)-এর “Pulse Survey: July 2025” অনুযায়ী, নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন — এই প্রশ্নে প্রায় ৪৮.৫ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্ত নেননি। একই জরিপে যেখানে ভোট দিতে প্রস্তুত থাকা যারা ভোটার, তাদের মধ্যে মাত্র ১২% বলেছেন তারা Bangladesh Nationalist Party (BNP)-কে দেবেন, এবং ১০.৪% বলেছেন Jamaat-e-Islami-কে।
আগের জরিপ (অক্টোবর ২০২৪) অনুযায়ী BNP-র জনপ্রিয়তা ছিল ১৬.৩%; অর্থাৎ BNP-র সমর্থনে উল্লেখযোগ্য হ্রাস। অন্যদিকে, ভোটারদের প্রায় অর্ধেকই (অবিরচ্ছিন্নভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে) সিদ্ধান্তহীন – এই “অনির্ধারিত” অংশ পুরো নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি ও ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭০% বিশ্বাস করেন আগামী নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ হবে “মুক্ত ও ন্যায্য” (free and fair)।
কেন ফলাফল অনিশ্চিত
-
ভোটদাতাদের বড় অংশ এখনো সিদ্ধান্তে আসেনি
— প্রায় ৫০% ভোটার জানাচ্ছেন তারা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থাৎ, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটের দিক পরিবর্তন হতে পারে। -
প্রচলিত দলগুলোর (বিশেষ করে BNP, Jamaat-কে) সমর্থন হ্রাস
— BNP-র সমর্থন গত ৮ মাসে noticeableভাবে কমেছে। গতকাল পর্যন্ত বিএনপির প্রতি আনুগত্য এমন একটা পর্যায়ে নেই, যেখানে “স্বতন্ত্র জয় নিশ্চিত” বলা যায়। -
রাজনীতিতে অস্থিরতা, নতুন দল বা রাজনৈতিক বিকল্প খুঁজছেন ভোটাররা
— অনির্ধারিত সংখ্যা, ঐতিহ্যগত দলগুলোর সাপেক্ষে দীর্ঘ নিরাশা, এবং সামাজিক-আর্থিক চাহিদার পরিবর্তন — সব মিলিয়ে, অনেক ভোটার এখন আরও পরিষ্কার, নতুন বা ভিন্ন প্রার্থী/দল খুঁজছেন। -
নির্বাচন ও প্রশাসনিক অবস্থা সম্পর্কে জনমনে সন্দেহ (যেখানে কিছু অংশ আশাবাদী হলেও)
— যদিও ৭০% বলছে নির্বাচনে ভোট হবে “মুক্ত ও ন্যায্য”, কিন্তু ১৫% বলেছে তারা মনে করে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। অর্থাৎ, ভোটারদের আস্থা নিঃসন্দেহ নয়। The Business Standard+1
সম্ভাব্য ফলাফল এবং বাজি
যদি আজই ভোট হয় — বা যদি বড় অন্য কোনো প্ররোচনা না আসে — তাহলে:
-
BNP-র জন্য এককভাবে সুস্পষ্ট জয় বলা কঠিন। কারণ ভোটদাতা ও ভিত্তি (support base) সংকীর্ণ।
-
নির্বাচনের ফল অনেকাংশে নির্ধারিত হবে “অনির্ধারিত ভোটারদের” সিদ্ধান্ত ও ভোট-মোটিভেশনের ওপর।
-
যদি একটি তৃতীয় বা বিকল্প দল (বা একাধিক ছোট/মধ্যম দল) “নির্ভরযোগ্য বিকল্প” হিসেবে আবির্ভূত হয়, তাহলে বিপুল অনির্ধারিত ভোটের অংশ তাদের দিকে যেতে পারে — ফলে শক্তিশালী আনুয়ায়ী জোট (coalition) গঠনই মূল চাবিকাঠি।
-
শুধু দল নয় — নির্বাচনের সময় প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, ভোটার অভিজ্ঞতা, ভোটারদের দুর্বলতা (অর্থ-সংকট, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক মান, নিরাপত্তা ইত্যাদি) এই সব মিলিয়ে ফল গঠন করবে।
এই মুহূর্তে ভোটের “ফেভারিট” বা যায়গাপাকা দলকে চিহ্নিত করা খুবই কঠিন। কারণ — প্রায় অর্ধেক ভোটার অনির্ধারিত। পুরনো রাজনৈতিক ধারা ভেঙে ফেলতে জনগণের মনোভাব আরও মুক্ত, পরিবর্তনমুখী। ফলে, নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক দল বা নেতা-নেত্রীদের লড়াই নয় — এটি হবে গণমানুষের “চাহিদা, আকাঙ্ক্ষা ও অভিজ্ঞতার” লড়াই।


