
আজকের বিশ্ব যখন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তির খোঁজে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত, তখন দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষত বাংলাদেশে এক শ্রেণির ধর্মীয় ব্যবসায়ী নিজেদের স্বার্থে মানুষের আবেগকে পুঁজি করছে। উন্নত বিশ্ব বায়ু ও আলোর ভেতরে লুকিয়ে থাকা আল্লাহর দানকৃত গুপ্তধন—অর্থাৎ সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, হাইড্রোজেন এনার্জি ইত্যাদি—আবিষ্কার করে টেকসই উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের কিছু গোষ্ঠী এখনো মানুষের ধর্মীয় আবেগকে ভয় ও প্রলোভনের শিকলে আটকে রেখে সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান কিংবা চীন নবায়নযোগ্য শক্তিকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারে পরিণত করেছে। সৌরশক্তি দিয়ে শিল্পকারখানা, ঘরবাড়ি ও যানবাহন চালানো হচ্ছে। বায়ুশক্তি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কোটি কোটি মানুষকে সাশ্রয়ী শক্তি সরবরাহ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ গবেষণা, বায়োটেকনোলজি—সব ক্ষেত্রেই তারা অদম্য অগ্রগতি দেখাচ্ছে। তাদের কাছে ধর্ম একান্তই ব্যক্তিগত অনুশীলন; ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী মুহম্মদ (স) প্রণিত সংবিধান “মদিনা সনদ” এর ভিত্তিতে যে ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করা হয়েছিল, সেই রাষ্ট্র ব্যবস্থায়ও ধর্ম একান্তই ব্যক্তিগত অনুশীলণ ছিল; রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো অন্ধ বিশ্বাস নয়, বরং বিজ্ঞান ও যুক্তিই প্রধান চালিকা শক্তি।
অন্যদিকে বাংলাদেশে এক শ্রেণির মুসলমান নেতা-কথিত আলেমরা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করছে। তারা জান্নাতের লোভ আর জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণে রাখছে। ইসলামের পবিত্র আদর্শকে বিকৃত করে কখনো মাজার ভাঙার নামে, কখনো পাগল ফকিরদের জোর করে মাথা ন্যাড়া করার মাধ্যমে তারা অস্থিরতা ছড়াচ্ছে। প্রকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে ধর্মীয় ইমোশনকে হাতিয়ার করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। এই প্রক্রিয়ায় সমাজ বিভক্ত হচ্ছে, সহিংসতা বাড়ছে, আর উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে দেশ পিছিয়ে পড়ছে।
ধর্মীয় আবেগের পুঁজি করে রাজনীতি একদিকে গণমানুষকে অন্ধকারে বন্দি করে রাখছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে দুর্বল করছে। যখন উন্নত বিশ্ব চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের নেতৃত্ব নিচ্ছে, তখন ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নামে কিছু গোষ্ঠী দেশকে পশ্চাৎপদ করে রাখছে। এতে করে শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র পিছিয়ে পড়ছে, আর দারিদ্র্য ও বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে।
বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—ধর্মীয় আবেগকে অপব্যবহারকারীদের হাত থেকে মুক্ত হয়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের পথে হাঁটা। ইসলাম কখনো অন্ধকার, ভীতি বা প্রলোভনের ধর্ম নয়; বরং জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ন্যায়ভিত্তিক সভ্যতার ধর্ম। তাই যদি সত্যিকার অর্থে আল্লাহর দানকে কাজে লাগাতে চাই, তবে আমাদেরও বায়ু, আলো ও বিজ্ঞানের গুপ্তধনকে আহরণ করতে হবে।
সুফি সাগর সামস্
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।


