অনলাইন ডেস্ক

আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং দেশের আর্থিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
শুক্রবার সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং কণ্ঠভোটে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। নতুন এই আইনের মাধ্যমে বিদ্যমান ‘ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০’ রহিত করা হয়েছে।
বিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আমানত বীমার সীমা দ্বিগুণ করা। আগে যেখানে একজন আমানতকারী সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সুরক্ষা পেতেন, সেখানে এখন তা বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে আমানতকারীরা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সুরক্ষা পাবেন।
নতুন আইনে প্রথমবারের মতো ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই ব্যবস্থার সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে ১ জুলাই ২০২৮ সালের মধ্যে এই ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।
আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক-এর অধীনে দুটি পৃথক তহবিল গঠন করা হবে—‘আমানত সুরক্ষা তহবিল (ব্যাংক কোম্পানি)’ এবং ‘আমানত সুরক্ষা তহবিল (ফাইন্যান্স কোম্পানি)’। এই তহবিলগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য দায় থেকে সম্পূর্ণ পৃথক থাকবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ট্রাস্টি বোর্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
তহবিল গঠনের মূল উৎস হবে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রদেয় প্রিমিয়াম। ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে তাদের গড় আমানতের ভিত্তিতে প্রতি তিন মাস অন্তর প্রিমিয়াম দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রিমিয়াম পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা বা আমানত গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যেতে পারে।
দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান অবসায়নের নির্দেশ জারি হলে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিকুইডেটরকে আমানতকারীদের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সুরক্ষিত আমানতের অর্থ পরিশোধ করবে।
এছাড়া, তহবিলের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এই তহবিল থেকে অর্জিত আয় ও মুনাফাকে প্রত্যক্ষ কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই আইন দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা, স্থিতিশীলতা এবং জনগণের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


