নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, সারাদেশে উৎসাহ-উদ্দীপনা, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী প্রচার চলছে এবং এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচনসংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রস্তুতি সন্তোষজনক হলেও মূল চ্যালেঞ্জ হলো ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। আগামী এক সপ্তাহকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন উৎসবমুখর, নিরাপদ এবং অংশগ্রহণমূলক হবে।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ প্রচারণা রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রস্তুতি
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর এক লাখের বেশি সদস্য ইতোমধ্যে দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন। এছাড়া বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার ও র্যাব সদস্যরা ধাপে ধাপে দায়িত্ব নেবেন।
দেশের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্র গোয়েন্দা নজরদারিতে আনা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে, যার সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার ৭০০। একই সঙ্গে নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কোনো কেন্দ্রে সমস্যা হলে দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনকে জানানো যাবে।
পর্যবেক্ষক ও প্রযুক্তি নজরদারি
নির্বাচনে প্রায় ৪০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক, প্রায় ৫০ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক এবং শতাধিক বিদেশি সাংবাদিক অংশ নেবেন। ইতোমধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।
নির্বাচনকে ঐতিহাসিক করার প্রত্যাশা
প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করে বলেন, নারী ভোটারসহ পরিবারভিত্তিক অংশগ্রহণ বাড়বে এবং এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এর আগে তিনি নির্বাচনকে ভবিষ্যতের জন্য মানদণ্ড স্থাপনকারী নির্বাচন হিসেবে দেখতে চান বলেও মন্তব্য করেছিলেন।
ভোট ও অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান
নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটির বেশি। প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটও দেশে পৌঁছানো শুরু হয়েছে।


