অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীতে অবৈধ অস্ত্র বাণিজ্য ও সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত মেহেদী হাসান দিপু ওরফে বিপুকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে আদালত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এই মামলার তদন্তে রাজধানীকেন্দ্রিক একটি বড় অস্ত্র চক্রের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন বাড্ডা থানার অস্ত্র আইনের মামলায় শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য
আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, বিপুসহ অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বাড্ডা-ভাটারা এলাকাসহ মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে গোপনে অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচা করা হতো।
তদন্তে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তদন্ত বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে এবং সে অত্যন্ত কৌশলী প্রকৃতির।
পুলিশের আশঙ্কা, জামিন পেলে বিপু পলাতক হতে পারে এবং মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
নির্বাচন সামনে রেখে বাড়তি উদ্বেগ
আবেদনে আরও বলা হয়, আসামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্ত্র মজুদ বা বিক্রি করেছে কিনা—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এছাড়া সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিজের হেফাজতে রেখেছিল কিনা, সেটিও তদন্তের বিষয়।
এছাড়া অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করতেও রিমান্ড প্রয়োজন বলে জানানো হয়।
অভিযান ও গ্রেফতারের ঘটনা
এর আগে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড্ডা থানার মধ্যবাড্ডা বেপারীপাড়া এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায় সেনাবাহিনীর একটি দল।
অভিযানে বিপুর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়—
-
১১টি বিদেশি পিস্তল
-
৩৯৪ রাউন্ড গুলি
এ ঘটনায় বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক মো. হাসানুর রহমান বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন।
আইনজীবী ছাড়াই শুনানি
আদালত সূত্র জানায়, শুনানির সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
তদন্তের ভবিষ্যৎ দিক
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় অস্ত্র সরবরাহ নেটওয়ার্ক, সন্ত্রাসী গ্রুপ এবং সম্ভাব্য অর্থায়ন উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।


