নিজস্ব প্রতিবেদক

সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, “দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করছে এবং আগামীতেও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সেনাবাহিনী যথাযথ ভূমিকা পালন করবে। সামনে দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে, সেখানে আমরা সরকারকে এবং নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করব, যেন দেশবাসী একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পায়।”
গতকাল সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী ‘প্রস্তুত ও সতর্ক’
সেনাপ্রধান বলেন, নির্বাচনের সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী সবসময়ই জাতীয় দায়িত্ব পালন করে আসছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যে কোনো ধরনের সহিংসতা, নাশকতা বা অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় জীবনের সংকটময় মুহূর্তগুলোতে জনগণের পাশে থেকেছে। নির্বাচনও জাতির কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া—এটি যেন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে, সে জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা করব।”
নির্বাচন কমিশনের আস্থা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ
নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের লক্ষ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে কাজ করছে—উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনী সেই সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করবে। “সহযোগিতা মানে শুধু উপস্থিতি নয়, বরং একটি নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা,” বলেন তিনি।
সশস্ত্র বাহিনী দিবসে ঐতিহ্যের পুনরুল্লেখ
অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও জাতীয় নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীসহ তিন বাহিনীর অবদান তুলে ধরা হয়। বক্তৃতায় সেনাপ্রধান দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


