অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা— ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর (মঙ্গলবার) রাতে অগ্রণী ব্যাংক-র দুইটি লকার খুলে গিয়েছে, যেগুলোর মালিক হিসেবে উল্লেখ ছিল শেখ হাসিনা — এবং তাতে পাওয়া গেছে ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার।
কী হয়েছে
-
লকার দুটি ছিল ব্যাংকের প্রধান শাখায় (দিলকুশা, ঢাকা) — নং- ৭৫১ ও ৭৫৩।
-
আদালতের অনুমতি নিয়ে, ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-র কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (CIC) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যৌথ টিম ওই লকারগুলো বুধবার রাতে খুলেছে।
-
উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকার ছাড়াও, লকারগুলোর মধ্যে বিভিন্ন দেশ এবং প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ও উপহারও রয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের মতে — “যেসব রাজ্য ভান্ডারে জমা দেওয়া উচিত ছিল”।
প্রেক্ষাপট
-
বিএনপি–জামায়াত-সহ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। তারপর থেকে তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে ট্যাক্স ফাঁকি, সম্পদ লুকিয়ে রাখার মতো অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। T
-
২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর, International Crimes Tribunal‑1 (ICT-1) তাকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড ও তাদের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্তির নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশনায়ই এনবিআর ও সিআইসি ব্যাংক লকারগুলো জব্দ করেছিল।
-
এর আগে, ১০ সেপ্টেম্বর একটি লকার (নং ১২৮) জব্দ করা হয়েছিল অন্য একটি ব্যাংকে (পূবালী ব্যাংক), তবে ওই লকার খোলার সময় কোনো মূল্যবান পাওয়া যায়নি।
প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পরিকল্পনা
-
এনবিআর জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকার এবং অন্যান্য উপহার নথি (যেমন, বিদেশি পুরস্কার) দিয়ে যাচাই করা হবে — তা জানা যাবে, আগে তার আয়কর রিটার্নে কি এসব সম্পদ দেখানো হয়েছিল কি না।
-
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দুদক-সহ সব সংস্থার দাবি, এই ধরনের তদন্ত এবং ভৌত প্রমাণ উদ্ধারই স্বচ্ছতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
-
সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে জল্পনা, চাঞ্চল্য এবং সমালোচনা শুরু হয়েছে — বিশেষ করে যারা দেখছেন, ক্ষমতাধারী-অসামরিক সরকার কর্তৃক প্রাক্তন শাসক ও তাদের সম্পদ-দুর্নীতি নিয়ে।
বিশ্লেষণ ও উদ্বেগ
এই উদ্ধার কী শুধুই আইনানুগ পদক্ষেপ, নাকি এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য — তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদি দেখা যায়, যে স্বর্ণালংকার এবং উপহার-পুরস্কার ডিক্লেয়ার করা হয়নি বা ট্যাক্স ফাঁকি হয়েছে — তাহলে এটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও আর্থিক স্বচ্ছতার দিক থেকে। অন্যদিকে, যদি আইনগতভাবে সব নথিপত্র সঠিক থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারের স্বীকৃতি, রাজ্যকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ন্যায্য প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি উঠবে।
এই ঘটনার গুরুত্ব শুধু ব্যক্তিগত সম্পদের অনুসন্ধান নয় — এটি সামাজিক ন্যায্যতা, রাজনীতির হিসাবদারি এবং সরকারের গঠন ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নও তুলে ধরেছে।


