ইসতিয়াক মাহমুদ মানিক

তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে দেশের ৫ কোটি পরিবারকে এ কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা।
সর্বজনীন কর্মসূচি, রাজনৈতিক বিবেচনা নয়
সভা শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না। কার্ড সরাসরি পরিবারের নারীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। বর্তমানে চালু থাকা ভাতা কার্ডগুলো বহাল থাকবে এবং নতুন ফ্যামিলি কার্ডে প্রদত্ত অর্থ আগের যেকোনো ভাতার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।
তিনি আরও জানান, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর নেতৃত্বে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে, যা তিন দিনের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন দেবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে হতদরিদ্র নারী, নগদ সহায়তা ২–২.৫ হাজার টাকা
কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী আমিন উর রশীদ জানান, প্রথম পর্যায়ে হতদরিদ্র নারীদের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি পরিবার ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ সহায়তা পেতে পারে। প্রাথমিকভাবে কিছু নির্ধারিত এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ছিল ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি অঙ্গীকার। ধাপে ধাপে দেশের সব পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, কর্মসূচিটি সর্বজনীনভাবে পরিকল্পিত। প্রথমে অতি দরিদ্র, পরে দরিদ্র এবং পরবর্তীতে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ঈদের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য রয়েছে।
১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন
ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি করা হয়েছে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। কমিটি ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন দেবে।
কমিটির কার্যপরিধিতে রয়েছে—
-
বাস্তবায়নের উপযুক্ত ডিজাইন প্রণয়ন
-
সুবিধাভোগী নির্বাচনের স্বচ্ছ পদ্ধতি নির্ধারণ
-
জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডেটাবেস সমন্বয়ে ডিজিটাল এমআইএস প্রস্তাব
-
প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালু
-
নারীদের জন্য বিদ্যমান কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয়ের সম্ভাবনা যাচাই
১৮০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান হবে খাল খনন কর্মসূচি
একই বৈঠকে জাতীয় পর্যায়ে নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের অধিকাংশ খাল খননের কাজ দৃশ্যমান করা হবে। পানিসম্পদ, স্থানীয় সরকার, কৃষি ও দুর্যোগব্যবস্থাপনা—এই চার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে। এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যক্রম শুরুর সময়সূচি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সারসংক্ষেপ
-
ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির সূচনা
-
প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি পরিবারকে অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা
-
প্রথম ধাপে হতদরিদ্র নারী, নগদ ২–২.৫ হাজার টাকা সহায়তা
-
১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন
-
১৮০ দিনের মধ্যে খাল খনন কর্মসূচির দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, বৈষম্যহীন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে দেশের সব পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


