তবে বছরের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে এসে যেন নতুন করে আলোচনায় ফিরে এলেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে প্রতিবেশি ভারতকে ১–০ গোলে হারিয়ে ২২ বছরের খরা ভাঙে বাংলাদেশ। ম্যাচজুড়ে মাঝমাঠে স্থিরতার প্রতীক হয়ে ছিলেন হামজা। বল দখল, ইন্টারসেপশন আর ডিফেন্সিভ কভার—সবখানে নিজেকে নিখুঁতভাবে মেলে ধরে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে প্রথমার্ধের শেষ ভাগে। বাম দিক দিয়ে দারুণ এক দৌড়ে বক্সে ঢুকে পড়েন উইঙ্গার রাকিব হোসেন। তাঁর নিখুঁত কাটব্যাক পাস থেকে সুযোগ তৈরি হয়। বলটা পেয়ে ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন এক টাচেই নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন। গোলরক্ষককে ফাঁকি দেওয়া সেই শটেই নিশ্চিত হয় লাল–সবুজের বহু প্রতীক্ষার জয়।
ম্যাচে বল দখলে এগিয়ে ছিল ভারত, তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের সমন্বয় তাদের আক্রমণ ভোঁতা করে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে ভারত সমতা ফেরাতে বেশ চাপ সৃষ্টি করলেও হামজা, তপু বর্মণ ও তারিক কাজী মিলে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন।
এই জয়ে বাছাইপর্বে নতুন স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। সমর্থকেরাও পেয়েছেন স্বস্তি—দীর্ঘ খরা শেষে প্রতিবেশি ভারতের বিপক্ষে জয়, তাও এমন নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে। কঠিন এক বছর পার করা হামজা চৌধুরীর জন্যও এটি প্রেরণাদায়ক এক সন্ধ্যা, যা নতুন মৌসুমে তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মোরসালিনের গোল, রাকিবের সহায়তা আর পুরো দলের সংগঠিত লড়াই—সব মিলিয়ে লাল–সবুজের জন্য এটি বছরশেষের সবচেয়ে বড় অর্জন।