বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর আয়–ব্যয়ের স্বচ্ছতা নেই। অধিকাংশ দল ‘হাইড অ্যান্ড সিকের’ (লুকোচুরি) নীতি অবলম্বন করে অর্থ সংক্রান্ত তথ্য লুকিয়ে রাখে। তাছাড়া অনেকের কাছে রাজনীতি হয়ে উঠেছে ‘অর্থসংগ্রহের জাদুর কাঠি’, যা ব্যবসা ও ব্যক্তিগত স্বার্থকে বাঁচাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে “বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থায়ন সংস্কৃতি ও ব্যবসা সুরক্ষা: বাস্তবতা ও সমাধানের পথ” শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন সুজন সম্পাদক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং ব্যবসায়ীরা। তারা রাজনৈতিক অর্থায়ন ব্যবস্থার অসচ্ছলতা এবং এর ফলে ব্যবসায়িক ও সামাজিক পরিবেশে প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সুজন সম্পাদক বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো আজ নিজের আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর কারণে নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক শক্তি প্রাপ্ত কিছু মানুষ রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে ব্যবসা সংরক্ষণের চেষ্টা করছেন।”
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক মন্তব্য করেন, “স্বচ্ছতার অভাব শুধু রাজনৈতিক দলের দায়িত্বে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পুরো দেশীয় রাজনৈতিক অর্থায়নের সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করছে। সুষ্ঠু ও দায়বদ্ধ রাজনৈতিক অর্থায়নের জন্য আইনগত ও সামাজিক উদ্যোগ জরুরি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাজনৈতিক অর্থায়নের নিয়ম ও তদারকি প্রক্রিয়া উন্নত না হলে ব্যবসায়িক পরিবেশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। এছাড়া রাজনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণের নামে বিভিন্ন অনিয়ম আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা রাজনৈতিক দলের স্বচ্ছতার জন্য আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার, প্রকাশ্যভাবে আর্থিক রিপোর্টিং বাধ্যতামূলক করার এবং রাজনৈতিক অর্থায়নে অংশগ্রহণকারীদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন।
ডায়রা গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের আলোচনা সভা আয়োজন করে দেশের রাজনৈতিক অর্থায়নের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সম্ভাব্য সমাধানের পথও উদ্ভাবনের চেষ্টা করছে।


