অনলাইন ডেস্ক

চুক্তির মেয়াদের অনেকটা সময় বাকি থাকতেই পর্তুগিজ কোচ Ruben Amorim-কে বরখাস্ত করেছে Manchester United। আর তাতেই গুনতে হচ্ছে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ—প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড। ক্লাবের আর্থিক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় ‘ব্যয়বহুল প্রকল্প’ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছেন ৪১ বছর বয়সী এই কোচ।
চুক্তি ভাঙার মূল্য
২০২৪ সালের নভেম্বরে ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেন অ্যামুরি। তখন তার সঙ্গে চুক্তি ছিল ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। গত ৪ জানুয়ারি ক্লাব কর্তাদের প্রকাশ্যে কড়া সমালোচনা করেন তিনি। পরদিনই তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটি।
চুক্তির দীর্ঘ মেয়াদ বাকি থাকায় আগাম ছাঁটাইয়ের ক্ষতিপূরণ বাবদ গুনতে হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থবছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ইউনাইটেড ৩ কোটি ২৬ লাখ পাউন্ড লাভের হিসাব প্রকাশ করলেও, অ্যামুরির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ব্যয় সেই লাভের বড় অংশই খেয়ে ফেলেছে।
শুরুতেই বড় বিনিয়োগ
অ্যামুরিকে পেতে ইউনাইটেডকে শুরুতেই মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হয়। তার সাবেক ক্লাব Benfica-কে ট্রান্সফার ফি হিসেবে দিতে হয়েছিল ১ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড। সব মিলিয়ে অ্যামুরির পেছনে ইউনাইটেডের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৭৩ লাখ পাউন্ড।
এর আগে যার উত্তরসূরি হয়ে তিনি দায়িত্ব নেন, সেই Erik ten Hag-কে ছাঁটাই করতেও ক্লাবটির খরচ হয়েছিল ১ কোটি ৪ লাখ পাউন্ড। ফলে কোচ বদলের ধারাবাহিকতায় আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে ইংলিশ জায়ান্টদের।
মাঠের পারফরম্যান্স হতাশাজনক
দায়িত্বকালে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৩ ম্যাচে ইউনাইটেড জিতেছে মাত্র ২৫টি। দীর্ঘদিন ধরেই ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া দলটিকে ছন্দে ফেরাতে পারেননি অ্যামুরি। বরং পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব, কৌশলগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ড্রেসিংরুমের অস্থিরতা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।
২০১৪ সালে David Moyes মাত্র আট মাস টিকেছিলেন প্রধান কোচের পদে। সেই সময়ের পর সবচেয়ে কম সময় দায়িত্বে থাকা কোচ হলেন অ্যামুরি। স্বল্প সময়ের জন্য এত বড় আর্থিক দায় নেওয়ায় ক্লাব ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে সমর্থক মহলে।
নীরব অ্যামুরি
বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে নিজের এই অধ্যায় নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি অ্যামুরি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইউনাইটেড অধ্যায় তার কোচিং ক্যারিয়ারে এক কঠিন শিক্ষাই হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে ক্লাবের জন্যও এটি একটি ব্যয়বহুল সিদ্ধান্তের উদাহরণ হয়ে থাকবে।
দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় বারবার কোচ পরিবর্তন যে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নষ্ট করে, অ্যামুরির অধ্যায় সেটিই আবার সামনে এনে দিল। এখন দেখার বিষয়, নতুন পরিকল্পনায় ইউনাইটেড কত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে—নাকি ‘পুনর্গঠন’ শব্দটি আরও এক মৌসুম ধরে শোনা যাবে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে।


