অনলাইন ডেস্ক

নারী ক্রিকেটে নতুন এক ইতিহাসের জন্ম দিয়েছেন ভারতের তারকা ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। এক ক্যালেন্ডার বছরে ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ড গড়ে বিশ্ব নারী ক্রিকেটে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করলেন তিনি। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর দাপট দেখিয়ে এই অনন্য কীর্তি গড়েছেন মান্ধানা।
চলতি বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণ—টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতেই ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন স্মৃতি মান্ধানা। একের পর এক ম্যাচে দায়িত্বশীল ও ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তার নিখুঁত টাইমিং, আত্মবিশ্বাসী শট নির্বাচন এবং ধারাবাহিকতা ভারতের নারী দলকে এনে দিয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জয়।
এক ক্যালেন্ডার বছরে ওয়ানডেতে স্মৃতি মান্ধানা করেন সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৬২ রান। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার লরা উলভার্ডটের সংগ্রহ ছিল ১ হাজার ১৭৪ রান। একই বছরে ওয়ানডেতে পাঁচটি সেঞ্চুরি করে তিনি ছুঁয়ে ফেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার তাজমিন ব্রিটস ও লরা উলভার্ডটের কীর্তিও।
এছাড়াও নারী ক্রিকেটে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন স্মৃতি মান্ধানা। ভারতীয় নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়, এর আগে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন সাবেক অধিনায়ক মিতালি রাজ। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—সবচেয়ে কম ইনিংস ব্যাটিং করেই ১০ হাজার রানে পৌঁছেছেন মান্ধানা। তিন সংস্করণ মিলিয়ে তার লেগেছে মাত্র ২৮০ ইনিংস, যেখানে মিতালি রাজের প্রয়োজন হয়েছিল ২৯১ ইনিংস। এ ছাড়া শার্লট এডওয়ার্ডস ও সুজি বেটস এই মাইলফলকে পৌঁছান যথাক্রমে ৩০৮ ও ৩১৪ ইনিংসে।
স্মৃতি মান্ধানার এই রেকর্ড কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বিশ্ব নারী ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান মান ও প্রতিযোগিতার প্রতিফলন। তার এই অর্জনের পর ক্রিকেটবিশ্ব থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনে ভাসছেন ভারতীয় এই ব্যাটার।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, স্মৃতি মান্ধানার ধারাবাহিকতা ও মানসিক দৃঢ়তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী ক্রিকেটারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তার এই পারফরম্যান্স নারী ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


