অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ) প্রতিষ্ঠা ও এর একাডেমিক কার্যক্রম শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা দিন দিন বাড়ছে। দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাত কলেজের শিক্ষক সমাজের আপত্তি এবং খসড়া অধ্যাদেশ নিয়ে মতবিরোধের কারণে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও এখনো শুরু হয়নি নিয়মিত ক্লাস।
ভর্তি হলেও শুরু হয়নি ক্লাস
২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে সাতটি কলেজে মোট ৯ হাজার ৩৮৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। তবে ভর্তি শেষ হলেও একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শীতকালীন ছুটি শেষে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ক্লাস শুরুর আশ্বাস দিলেও সাত কলেজের শিক্ষকরা জানিয়েছেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের তারা ক্লাস নেবেন না, হবে না ওরিয়েন্টেশনও। তবে মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় বা পরিচিতি পর্ব আয়োজন করা হবে।
শিক্ষক সমাজের আপত্তি
সাত কলেজের শিক্ষকরা, যারা মূলত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা, খসড়া অধ্যাদেশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় মডেল নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাদের আশঙ্কা—এই মডেল বাস্তবায়িত হলে সাত কলেজের স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ন হবে এবং শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় দেড় হাজার পদ বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
সাত কলেজ স্বতন্ত্র রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহফিল আরা বেগম বলেন, “সাত কলেজ পরিচালনার জন্য একটি প্রশাসনিক বডি থাকতে পারে বা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এফিলিয়েশন হতে পারে। আমরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকতে চাই, তবে সাতটি কলেজের স্বতন্ত্র সত্তা বিলীন করে নয়।”
ভার্চুয়াল শিক্ষা
খসড়া অধ্যাদেশে প্রস্তাবিত একাডেমিক মডেলে ভার্চুয়াল বা অনলাইন পাঠদানের বিষয়টি থাকায় আপত্তি তুলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ও। তাদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এভাবে পাঠদান চালু হলে শিক্ষার মান ও একাডেমিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
চূড়ান্ত অধ্যাদেশ প্রণয়নের দাবিতে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করা হবে।
তবে এরই মধ্যে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিদ্যমান কলেজ শিক্ষকদের এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ কলেজ শিক্ষকদের কাছে ক্লাস করতে আগ্রহী নন, আবার শিক্ষক সমাজও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন।
সহশিক্ষা
খসড়া অধ্যাদেশে ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজে সহশিক্ষা চালুর প্রস্তাব থাকায় সেখানকার ছাত্রীরা আপত্তি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, পৃথক পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষা করে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সমাধান
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, অংশগ্রহণমূলক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা, সাত কলেজের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা এবং শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনর্গঠন করা না গেলে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্লাস শুরুর নির্ধারিত সময়সীমা রক্ষা করা যাবে কি না—সে বিষয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।


