অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নতুন ও বড় উপাদান হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকে চিহ্নিত করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, এআইয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা ও ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে, কিন্তু এর অপব্যবহার ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা সদিচ্ছা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য মুক্ত আলোচনা’ শীর্ষক ধারাবাহিক আয়োজনের অংশ হিসেবে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা প্রসঙ্গ’ বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “আগামী নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম একটি নতুন বাস্তবতা। এর মাধ্যমে বিভ্রান্তি, ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়ানো হচ্ছে। অথচ নির্বাচন কমিশন বা সরকার—কেউই এর অপব্যবহার বন্ধে কার্যকর কিছু করতে পারছে না।”
ডিজিটালাইজেশনের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি সমাজকে অনেক ক্ষেত্রে প্রগতিশীল করলেও একই সঙ্গে নতুন ধরনের বৈষম্যও সৃষ্টি করছে। একদিকে ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে প্রথাগত কর্মসংস্থানের ওপর চাপ বাড়ছে।
ইন্টারনেটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আগস্ট মাসের আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেই বোঝা যায়, বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট কতটা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল একটি নৈতিক পরাজয়ের প্রতিফলন।”
ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহারে কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতি কমেছে, তবে এই অর্জন টেকসই করতে হলে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। তিনি একটি একীভূত জাতীয় তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা নির্বাচন কমিশন বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে না রেখে একটি স্বায়ত্তশাসিত, নজরদারিভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, নতুন সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্সকে আগামী সরকারকে বৈধতা দিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো আগামী নির্বাচনে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে জনগণের সামনে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরা প্রয়োজন।
সেমিনারে বক্তারা ডিজিটাল অর্থনীতি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করতে প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


