বিশেষ প্রতিনিধি

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আবারও অবনতি হয়েছে। দুই দিন সামান্য উন্নতির পর গতকাল দুপুর থেকে তাঁর অবস্থার পুনরায় অবনতি ঘটায় তাঁকে সিসিইউতে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক দল বেগম জিয়ার অবস্থাকে “অত্যন্ত সংকটাপন্ন” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে চিকিৎসা
বেগম জিয়ার চিকিৎসায় সহায়তা করতে চীন থেকে আগত পাঁচ সদস্যের একটি প্রাথমিক বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম সোমবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছেছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকায় আসবে চীনের মূল চিকিৎসক দলটি।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে দফায় দফায় বৈঠক করছেন এবং সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসাব্যবস্থায় মতামত দিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্র বলছে, জটিলতা ও দীর্ঘস্থায়ী রোগব্যাধির কারণে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিকেল টিম দিনরাত কাজ করছে।
গুজব ও বিভ্রান্তির প্রতিবাদ
বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সোমবার দুপুরের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে তাঁর অবস্থা নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়ানোর পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিকেল সাড়ে তিনটায় এক বিবৃতিতে বলেন—
-
“চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।”
-
“দেশি–বিদেশি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা চলছে।”
-
“বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত অনেক তথ্য সঠিক নয়। বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করছি।”
তিনি খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসী ও বিএনপি নেতা–কর্মীদের দোয়া করার আহ্বান জানান।
পরিস্থিতির সার্বিক মূল্যায়ন
চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘদিনের জটিল অসুস্থতাগুলো এখন আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। ভেন্টিলেটর সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। তবু দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ
বেগম খালেদা জিয়ার হঠাৎ অবস্থার অবনতি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাট উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মহল, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রকামী সংগঠনগুলো গভীর শঙ্কা প্রকাশ করছে। তাঁর সুস্থতা কামনায় দেশজুড়ে দোয়া মাহফিল ও প্রার্থনার আয়োজন চলছে।


