অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাদির ওপর হামলা ও প্রাক-নির্বাচনী সহিংসতার আশঙ্কা নির্বাচনকে নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞরা নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু ভোটারই নয়, রাজনৈতিক নেতা ও প্রার্থীরাও নিজ নিজ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। সম্প্রতি ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনা এই উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন ও বর্তমান সরকার রাজনীতিবিদদের জন্য সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সাধারণত বিপন্ন জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন থাকি, কিন্তু এখন রাজনীতিবিদদেরও নিরাপত্তা একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।’
ড. দেবপ্রিয় আরও উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাক-নির্বাচনী সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব কি না, এ বিষয়ে অনেকেই নিশ্চিত নন। এই আলোচনার ভিত্তিতে একটি নাগরিক ইশতেহার তৈরি করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক ও আমলাশক্তিই প্রধান বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তিনি জুলাই আন্দোলনের উদাহরণ টেনে দেখান, এই গোষ্ঠীগুলি কোনো শিক্ষা নেয়নি।
শ্রম ও কর্মসংস্থান ও নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন প্রশাসনের ভঙ্গুরতা ও ব্যবসায়ীদের আধিক্যকে রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সংসদের প্রায় ৬০ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী, যা স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করছে।
বক্তারা ব্যাংকিং খাতের সংকট এবং খেলাপি ঋণের উদ্বেগজনক বৃদ্ধি নিয়েও সতর্ক করেছেন। সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান বলেন, দেশের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে সমস্যা আইন প্রণয়নে নয়, বাস্তবায়নের ব্যর্থতায়।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মনোনয়ন বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি বলেছেন, কোনো অভিযোগ পেলে কমিশন ব্যবস্থা নেবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


