অনলাইন ডেস্ক

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে আজ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতার পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় স্থান পায়।
বাংলাদেশ–ফ্রান্স পুলিশ সহযোগিতা
-
ফরাসি ন্যাশনাল পুলিশ ও জেন্ডারমেরির সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
-
অপরাধ দমন প্রযুক্তি, ফরেনসিক সক্ষমতা, সাইবারক্রাইম তদন্ত, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ বিনিময়ের ক্ষেত্রগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
-
যৌথ কর্মশালা, দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স এবং জ্ঞান–বিনিময় প্ল্যাটফর্ম তৈরির সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হয়।
নির্বাচনপূর্ব নিরাপত্তা ইস্যু
-
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা কৌশল এবং ঝুঁকি–ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন আইজিপি।
-
নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, তা তুলে ধরা হয়।
-
নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ফরাসি দূতাবাসের আগ্রহ প্রকাশ পায় এবং উভয়পক্ষ এ বিষয়ে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি
আইজিপি বাহারুল আলম পুলিশের সামগ্রিক উন্নয়ন–ধারা তুলে ধরে নিম্ন বিষয়গুলো উল্লেখ করেন—
-
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ।
-
কমিউনিটি পুলিশিং, বিট পুলিশিং এবং স্মার্ট পেট্রোলিং কার্যক্রমের অগ্রগতি।
-
ফরেনসিক, সাইবার নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সক্ষমতায় চলমান উন্নয়নের বিবরণ।
-
জননিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ডিভাইস, যানবাহন ও প্রশিক্ষণের পরিধি বৃদ্ধির তথ্য।
পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ
-
আইজিপি জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ সদস্যদের নিবিড়, বাস্তবমুখী ও পরিস্থিতিনির্ভর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
-
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং জনসম্পৃক্ততা বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ জোরদার করা হয়েছে।
-
আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিশেষ বাহিনী ও ফিল্ড ফোর্সের সক্ষমতা শক্তিশালী করা হচ্ছে—এ তথ্য রাষ্ট্রদূতকে জানানো হয়।
রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও নির্বাচনী প্রস্তুতির প্রশংসা করেন। তিনি নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা জোরদারে ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎটি বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা দৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনপূর্ব নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনাগুলো ভবিষ্যৎ সহায়তা ও যৌথ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


