বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

“আমিই কিউবা, আমি কমান্ডার ফিডেল ক্যাস্ট্রো”

পাঠক প্রিয়

২৮ শে ফেব্রুয়ারী ১৯৫৯। ২০ বছর বয়সি নিউইয়র্কের মারিতা লরেন্জ যখন বাবার ক্রুজশিপ এম এস বার্লিনে কর্মরত।
একদিন সেই ক্রুজশিপ নোঙ্গর ফেলল কিউবার হাভানা বন্দরে। একট ছোট লঞ্চ ক্রুজশিপের গায়ে এসে লাগল। সেখান থেকে নেমে এল লম্বা জলপাই ইউনিফর্ম পরা এক ৩৩ বছরের যুবক।
“উনি কে?”
জিজ্ঞাসা করতেই উত্তর এল “আমিই কিউবা, আমি কমান্ডার ফিডেল ক্যাস্ট্রো।”
তারপর উভয়ের ভাল লাগা। মেয়েটি চলে এল হাভানাতে ক্যাস্ট্রোর আমন্ত্রণে ক্যাস্ট্রোর পেন্টহাউজ হাভানা হিলটনের ৭৪ তলায়।
দু’মাস পরে মেয়েটা জানতে পারল সে অন্তঃস্বত্বা। এরপর একগ্লাস দুধ খেয়ে হঠাৎ অসুস্ত হয়ে পড়ল একদিন সে। চিকিৎসা করতে ফিরে এল নিউইয়র্ক। চিকিৎসার সময় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রতিনিধিরা নিয়মিত দেখা করত তার সাথে। তাকে নানা ভাবে বোঝায় বিষ দেওয়া হয়েছিল তাকে। তার উচিৎ হবে ক্যাস্ট্রোকে মেরে প্রতিশোধ নেওয়া। প্রথমে বিশ্বাস করতে চায়নি সে, কিন্তু সিআইএর পেশাদারদের ব্রেইনওয়াশ কার্যক্রম জয়ী হয় এমনই বলেছে মারিতা পরবর্তীতে।
এক বছর পরেই ফেরে সে হাভানায়। ক্যাস্ট্রোর পেন্টহাউজ হাভানা হিলটনের ৭৪ তলায়। কাজটি সহজ। ক্যাস্ট্রোর পানিয়তে একটি ছোট্ট ট্যাবলেট মিশিয়ে দিতে হবে যেটা সিআইএর গুপ্তহত্যা বিশেষজ্ঞদের দেওয়া। কিউবা কাস্টমসকে এড়াতে গিয়ে মেয়েটি ট্যাবলেটটি তার কোল্ড ক্রিমের কৌটাতে লুকিয়ে রাখে। সেটি বের করে পানিয়তে মেশাতে গিয়ে দেখে ওতে ক্রিম লেগে আছে অনেক, পানিয়তে সেটা গলবে না। ক্রিমটা মুছতে চেষ্টা করে সে কিন্তু কাজটি সহজ হয় না। শেষে টয়লেটে গিয়ে ফ্ল্যাস করে দিতে চায়, তবুও সেটা যেতে চায় না। ততক্ষনে ক্যাস্ট্রো চলে আসে।
ক্যাস্ট্রোকে দেখার পর মন পরিবর্তন হয়ে যায় তার। কিন্তু তাকে দেখেই বুঝে ফেলে ক্যাস্ট্রো। তার পর কোমরের হোলস্টার থেকে গুলিভর্তি রিভলভারটা খুলে হাতে নেয় ক্যাস্ট্রো। মারিতা মনে করে তাকে গুলি করবে ক্যাস্ট্রো। কিন্তু না, রিভলভারটা তার দিকে উল্টো করে এগিয়ে ধরে ক্যাস্ট্রো। বলে “আমাকে মারতে এসেছ তো? মারো”। তারপর হাতের পাইপটা মুখে দিয়ে এক লম্বা টান দিয়ে চোখ বন্ধ করে ক্যাস্ট্রো। রিভলবারটা হাতে নিয়ে গুলিগুলো আনলোড করে ফেলে ক্যাস্ট্রোর বাহুলগ্না হয় মেয়েটি।
আমেরিকার প্রকাশিত নথিপত্রে সিআইএ দ্বারা ক্যাস্ট্রোকে প্রায় কয়েক ডজন হত্যাচেষ্টার প্রমাণ মেলে। যেটা কিউবা সরকার বলে ৬৩৮ বার। কিন্তু কিউবার জনগনের ভালবাসা সেটা কখনই সফল হতে দেয় নি। দক্ষিন আমেরিকায় হিমালয় নেই আছে মহান আন্দেজ। কিউবাতে আন্দেজও নেই ক্যাস্ট্রোই তাদের আন্দেজ। ১৯৭৩ এর জোট নিরপেক্ষ সন্মেলনে ক্যাস্ট্রো বলেছিলেন “আমি হিমালয় দেখিনি। তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব আর সাহসে এই মানুষটিই হিমালয়। তার মানে আমার হিমালয়ের অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে।”
ছবি:— মারিতা লরেন্জ ও ফিডেল ক্যাস্ট্রো ৷
(সংগৃহীত)

সর্বশেষ সংবাদ

ময়মনসিংহ ও সিলেটে ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে

অনলাইন ডেস্ক দেশের দুই অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্ভাব্য এই দুর্যোগে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০...

ডিএমপিতে পাঁচ পরিদর্শক বদলি

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পাঁচজন পরিদর্শককে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) মো. আমীর খসরুর স্বাক্ষরিত এক আদেশে...

যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা দিচ্ছে চীন—মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

অনলাইন ডেস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই তেহরানকে নতুন করে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন—এমন তথ্য দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মার্কিন...

হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১৬৯

অনলাইন ডেস্ক দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫...

কাতারে ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যদিও...

জনপ্রিয় সংবাদ