বিশেষ প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন নির্দেশনা দিয়েছে—প্রতিটি দলকে নিজেদের নিবন্ধিত প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। জোটের প্রধান দলের প্রতীক ব্যবহারের প্রচলিত সুযোগ এবার থাকছে না। এ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন ছোট ও নতুন নিবন্ধিত দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।
ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থী মনোনয়নে আর জোটনেতার প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। ফলে যেসব ক্ষুদ্র দল বহুদিন ধরে জোটের ওপর নির্ভর করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছিল, তাদের সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। জনসাধারণের কাছে কম পরিচিত নতুন প্রতীক নিয়ে মাঠে নামা নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েছে দলগুলোর।
‘হুট করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না’—ক্ষুদ্র দলগুলোর অভিযোগ
ছোট দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচন সামনে রেখে হঠাৎ করে এমন বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক। তাঁদের মতে,
-
নতুন প্রতীক পরিচিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর আরও সময় প্রয়োজন,
-
ভোটারের মনে প্রতীকের পরিচিতি তৈরি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া,
-
আর নতুন বিধান ছোট দলগুলোর নির্বাচনী সক্ষমতাকে দুর্বল করবে।
একাধিক দলের নেতারা জানান, তাঁরা এখনও জনগণের কাছে নিজেদের প্রতীক পরিচিত করতে পারেননি; তাই জোটপ্রধানের জনপ্রিয় প্রতীকেই ভোটে যাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তে সেই পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
ইসির প্রতি সময় ও বাস্তবসম্মত নীতির দাবি
দলগুলোর নেতাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের উচিত—
-
প্রতীকের বাধ্যবাধকতা কার্যকর করার আগে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া,
-
ছোট দলগুলোর জন্য ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুযোগ রাখা,
-
রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় আলোচনা করে সমাধান খুঁজে বের করা।
তাঁরা মনে করেন, তড়িঘড়ি করে নিয়ম পরিবর্তন করলে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা অসম হয়ে যেতে পারে।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা বাড়ছে
নিবন্ধিত নতুন কয়েকটি দল বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁদের আশঙ্কা, অচেনা প্রতীক নিয়ে প্রচার চালানো কঠিন হবে; ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন। এতে ভোটপ্রাপ্তি ও সাংগঠনিক অবস্থান দুটোই ক্ষতির মুখে পড়বে।
বিএনপি ২৩৭ আসনে তাদের দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর সারা দেশে নির্বাচনি হাওয়া বইছে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিএনপির সঙ্গে রাজপথে লড়াই করা দলগুলোকে আসন ছাড় দিচ্ছে বিএনপি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নিজ প্রতীকে ভোট করার সিদ্ধান্তে মিত্র দলগুলোর আসন চূড়ান্ত করতে পারছে না। নির্বাচনে জয়ের শতভাগ নিশ্চয়তা চান বিএনপির মিত্ররা। আসন ছাড় পাওয়ার পর প্রতীক হিসেবেও ধানের শীষে নিতে চায় বেশির ভাগ দলগুলো। তাদের ধারণা, এর ফলে ভোটের মাঠ ও জয়ের ক্ষেত্রে ঝুঁকিমুক্ত থাকা যাবে। তবে আইনে বাধ্যবাধকতা তৈরি হলে সরাসরি বিএনপির প্রার্থী হতেও আপত্তি নেই অনেকের।
অন্যদিকে শরিকদের মধ্যে নিবন্ধন না থাকা দলগুলোর প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকেই নির্বাচন করবেন। জানা গেছে, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন বা এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, ১২-দলীয় জোটের মুখপাত্র সাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্র মঞ্চও বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ ভোটে অংশ নিতে চায়। বিএনপি যেসব আসন ফাঁকা রেখেছে তার বেশ কিছুতে মিত্রদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে কৌশল বা স্থানীয় কোন্দলের কারণে এখনো পুরোপুরি সিদ্ধান্ত নেয়নি দলটি। পরে এসব আসনের প্রার্থীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে দলের নেতারা জানিয়েছেন।
এখন নজর ইসির দিকে—ছোট দলগুলোর দাবি ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে কমিশন কোনো সমন্বিত সমাধান দেয় কি না, সেটাই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।


