শুক্রবার, মে ১, ২০২৬

সাড়াজাগানো অনুসন্ধান: হাসিনার লকারে ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার

পাঠক প্রিয়

অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা— ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর (মঙ্গলবার) রাতে অগ্রণী ব্যাংক-র দুইটি লকার খুলে গিয়েছে, যেগুলোর মালিক হিসেবে উল্লেখ ছিল শেখ হাসিনা — এবং তাতে পাওয়া গেছে ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার

কী হয়েছে

  • লকার দুটি ছিল ব্যাংকের প্রধান শাখায় (দিলকুশা, ঢাকা) — নং- ৭৫১ ও ৭৫৩।

  • আদালতের অনুমতি নিয়ে, ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-র কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (CIC) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যৌথ টিম ওই লকারগুলো বুধবার রাতে খুলেছে।

  • উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকার ছাড়াও, লকারগুলোর মধ্যে বিভিন্ন দেশ এবং প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ও উপহারও রয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের মতে — “যেসব রাজ্য ভান্ডারে জমা দেওয়া উচিত ছিল”।

প্রেক্ষাপট

  • বিএনপি–জামায়াত-সহ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। তারপর থেকে তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে ট্যাক্স ফাঁকি, সম্পদ লুকিয়ে রাখার মতো অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। T

  • ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর, International Crimes Tribunal‑1 (ICT-1) তাকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড ও তাদের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্তির নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশনায়ই এনবিআর ও সিআইসি ব্যাংক লকারগুলো জব্দ করেছিল।

  • এর আগে, ১০ সেপ্টেম্বর একটি লকার (নং ১২৮) জব্দ করা হয়েছিল অন্য একটি ব্যাংকে (পূবালী ব্যাংক), তবে ওই লকার খোলার সময় কোনো মূল্যবান পাওয়া যায়নি।

প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পরিকল্পনা

  • এনবিআর জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকার এবং অন্যান্য উপহার নথি (যেমন, বিদেশি পুরস্কার) দিয়ে যাচাই করা হবে — তা জানা যাবে, আগে তার আয়কর রিটার্নে কি এসব সম্পদ দেখানো হয়েছিল কি না।

  • সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দুদক-সহ সব সংস্থার দাবি, এই ধরনের তদন্ত এবং ভৌত প্রমাণ উদ্ধারই স্বচ্ছতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অপরিহার্য।

  • সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে জল্পনা, চাঞ্চল্য এবং সমালোচনা শুরু হয়েছে — বিশেষ করে যারা দেখছেন, ক্ষমতাধারী-অসামরিক সরকার কর্তৃক প্রাক্তন শাসক ও তাদের সম্পদ-দুর্নীতি নিয়ে।

বিশ্লেষণ ও উদ্বেগ

এই উদ্ধার কী শুধুই আইনানুগ পদক্ষেপ, নাকি এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য — তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদি দেখা যায়, যে স্বর্ণালংকার এবং উপহার-পুরস্কার ডিক্লেয়ার করা হয়নি বা ট্যাক্স ফাঁকি হয়েছে — তাহলে এটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও আর্থিক স্বচ্ছতার দিক থেকে। অন্যদিকে, যদি আইনগতভাবে সব নথিপত্র সঠিক থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারের স্বীকৃতি, রাজ্যকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ন্যায্য প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি উঠবে।

এই ঘটনার গুরুত্ব শুধু ব্যক্তিগত সম্পদের অনুসন্ধান নয় — এটি সামাজিক ন্যায্যতা, রাজনীতির হিসাবদারি এবং সরকারের গঠন ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নও তুলে ধরেছে।

সর্বশেষ সংবাদ

ময়মনসিংহ ও সিলেটে ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে

অনলাইন ডেস্ক দেশের দুই অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্ভাব্য এই দুর্যোগে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০...

ডিএমপিতে পাঁচ পরিদর্শক বদলি

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পাঁচজন পরিদর্শককে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) মো. আমীর খসরুর স্বাক্ষরিত এক আদেশে...

যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা দিচ্ছে চীন—মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

অনলাইন ডেস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই তেহরানকে নতুন করে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন—এমন তথ্য দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মার্কিন...

হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১৬৯

অনলাইন ডেস্ক দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫...

কাতারে ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যদিও...

জনপ্রিয় সংবাদ