অনলাইন ডেস্ক

একদিন এক ভদ্রলোক এক মহিলাকে হঠাৎ জিজ্ঞেস করলেন—“তুমি কোন জাতের?”
মহিলাটি একটু হাসলেন, তারপর শান্ত স্বরে পাল্টা প্রশ্ন করলেন—“কোনটা জানতে চান? নারীর জাত না মায়ের জাত?”
লোকটি অবাক হয়ে বললেন, “দুটোই শুনতে চাই।”
তখন মহিলার মুখে এক অদ্ভুত প্রশান্ত হাসি ফুটে উঠল।
তিনি ধীরে ধীরে বললেন—“যখন এক নারী মা হয়ে ওঠে, তখন তার কোনো জাত থাকে না।
সে তখন সব জাতের ঊর্ধ্বে, সব সীমানার বাইরে।”
লোকটি প্রশ্ন করলেন, “কীভাবে?”
মহিলা বললেন—“যখন মা নিজের সন্তানকে বড় করে, তার মলমূত্র পরিষ্কার করে,
রাত জেগে তার যত্ন নেয়, তখন সে যেন এক পরিচারিকা হয়ে যায়—
যেন জীবনের সব নিচুতম কাজটিও ভালোবেসে করে ফেলে।
তারপর যখন সন্তান একটু বড় হয়, মা তাকে অশুভ থেকে রক্ষা করে, নিজের বুকের ভেতর আগুন জ্বেলে তাকে আগলে রাখে—তখন সে হয়ে ওঠে এক ক্ষত্রিয়, নিজের সন্তানের জন্য লড়তে প্রস্তুত এক যোদ্ধা। আর যখন সেই সন্তান শেখে, পড়ে, বুঝতে শুরু করে, তখন মা-ই তার প্রথম শিক্ষক—তখন সে যেন ব্রাহ্মণ-এর মতো জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়।
শেষে যখন সন্তান উপার্জন করতে শেখে, সংসারের হিসেব-নিকেশ বোঝে,
তখন মা তাকে শেখায় কীভাবে টাকাপয়সার মর্যাদা বুঝতে হয়,
কীভাবে পরিশ্রমের সম্মান করতে হয়—
তখন সে হয়ে ওঠে এক বৈশ্য, সংসারের ভারসাম্য রক্ষাকারী।”
মহিলা একটু থেমে মৃদু হেসে বললেন—“তাহলে বলুন দাদা, মা কি সত্যিই কোনো জাতের হতে পারে?
না কি তিনি সব জাতের রূপ, সব শক্তির প্রতীক?”
ভদ্রলোকের চোখে জল এসে গেল। তিনি নিঃশব্দে মাথা নিচু করলেন। তার চোখে তখন এক অপার শ্রদ্ধা— সেই মায়ের প্রতি, যিনি নিজের জাত ভুলে সন্তানকে মানুষ করেন, আর সেই নারীসত্তার প্রতি, যিনি প্রতিদিন নিজেকে ভাঙেন শুধু ভালোবাসার জন্য।
মহিলাটি হালকা হাসলেন। তার চোখে তখন গর্ব— এক মা হওয়ার, এক নারী হওয়ার, এক জীবন সৃষ্টিকারী হওয়ার গর্ব।
এই লেখা পৃথিবীর প্রতিটি নারীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, যাঁরা প্রতিদিন নিজের অস্তিত্ব ভুলে অন্যের জীবনে আলো জ্বালান।


