ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঢাকা, মিরপুর, ২১ নভেম্বর— মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনেও মূল ফোকাস ছিলেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার কৃতিত্ব অর্জনের পর দ্বিতীয় দিন সেঞ্চুরি করে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। তার শততম টেস্টকে ঘিরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের পুরো সময়জুড়েই ছিল এক উৎসবমুখর আবহ। মাঠে ফিল্ডিংয়ে যেকোনো অংশগ্রহণেই ২-৩ হাজার দর্শকের উচ্ছ্বাসে ভেসে ওঠে স্টেডিয়াম।
তবে তৃতীয় দিনের খেলা আরও দুটি কারণে বিশেষভাবে আলো কাড়ে—ভূমিকম্প এবং তাইজুল ইসলামের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স।
ভূমিকম্পে স্থবির খেলা
সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে দেশজুড়ে অনুভূত ভূমিকম্পে ঢাকার বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামও কেঁপে ওঠে। মাঠে উপস্থিত খেলোয়াড়, আম্পায়ার এবং দর্শকদের মাঝে মুহূর্তের জন্য উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তাজনিত কারণে আম্পায়ারদ্বয় কিছু সময়ের জন্য খেলা বন্ধ রাখেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পুনরায় খেলা শুরু হয়।
তাইজুলের আলো ছড়ানো স্পেল
টেস্টের তৃতীয় দিন বল হাতে সমস্ত আলো নিজের দিকে টেনে নেন অভিজ্ঞ বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। অনুকূল উইকেটে নিখুঁত লাইনে বল করে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেন তিনি। তার ধারাবাহিক সাফল্যে প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা চাপে পড়ে এবং বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ শক্ত হয়। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানো এ স্পেল তৃতীয় দিনের প্রধান ক্রিকেটীয় আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে।
মুশফিক—উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু
যদিও ব্যাট কিংবা ফিল্ডিংয়ে তৃতীয় দিনে কোনো উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেননি, মুশফিকুর রহিম ছিলেন পুরো দিনের আবেগের কেন্দ্র। স্টেডিয়ামের দর্শকরা তার প্রতিটি নড়াচড়ায় তুমুল উল্লাসে সাড়া দেন—যা তার শততম টেস্টকে ঘিরে ভক্তদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।
মিরপুর টেস্টের প্রথম তিন দিনেই ইতিহাস, আবেগ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুহূর্ত এবং ক্রিকেটীয় পারফরম্যান্স মিলেমিশে তৈরি করেছে নাটকীয় এক আবহ। চতুর্থ দিন মাঠে নামার অপেক্ষায় এখন ক্রিকেটপ্রেমীরা।


