নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে দেশে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৩০ হাজার টন জ্বালানি নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের জাহাজটি বন্দরে ভিড়ে। এতে করে ১০ হাজার টন ডিজেল এবং ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে চীনের কোম্পানি Unipec।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী জাহাজটি দেশে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। তিনি বলেন, “বিকল্প উৎস থেকেও তেল সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, যাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে।”
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত আকারে আমদানি করে দেশে পরিশোধন করা হয়, আর বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি হিসেবে সরাসরি আমদানি করা হয়।
এছাড়া ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়াসহ অন্তত আটটি দেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে বিপিসি। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সরবরাহ চেইন সচল রাখতে বহুমুখী উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সরকার ও বিপিসির সময়োপযোগী পদক্ষেপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে।


