শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২৬

আবদুর রবের দাবি: পাকিস্তানকে এক রাষ্ট্র রাখার চেষ্টা করেছিলেন শেখ মুজিব

পাঠক প্রিয়

অনলাইন ডেস্ক 

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) নেতা আ. স. ম. আবদুর রবের একটি পুরনো সাক্ষাৎকারের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পরও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ পাকিস্তানকে এক রাষ্ট্র হিসেবে বজায় রাখার চেষ্টা করছিলেন।

সাক্ষাৎকারে আবদুর রব বলেন, নির্বাচনের পর শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলি ভুট্টোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানকে এক রাষ্ট্র হিসেবে টিকিয়ে রাখা।

তবে তিনি দাবি করেন, সে সময় ছাত্রসমাজ, যুবসমাজ এবং স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিল যাতে কোনোভাবেই পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামো বজায় রাখার উদ্যোগ সফল না হয়।

ভিডিওতে রব বলেন, ৭ মার্চের আগে তিনি পল্টন ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে স্বাধীন বাংলার পতাকা তুলে দেন। তবে তখন মুজিব নাকি বলেন, “এটা অনেক বেশি অ্যাডভান্স, ইটস টু আরলি।”

রবের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি তখন শেখ মুজিবকে জানান যে এটাই সঠিক সময়।

তিনি আরও বলেন, সেদিন রাত ১১টার দিকে ধানমন্ডির বাসভবনে শেখ মুজিবের সঙ্গে দেখা করে তাকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়— পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকা এবং পাকিস্তানি নেতৃত্বের সঙ্গে আপস করার চেষ্টা দেশের মানুষ মেনে নেবে না।

আবদুর রবের দাবি, ২৫ মার্চ ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় শেখ মুজিবের গাড়িতে জোর করে স্বাধীন বাংলার পতাকা লাগানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ইয়াহিয়ার সঙ্গে আলোচনায় পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার, আলাদা মুদ্রা চালু এবং পৃথক ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালুর মতো বিষয়ও উত্থাপিত হয়েছিল বলে জানান তিনি।

সাক্ষাৎকারে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের রাজনীতি নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন জাসদ নেতা। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পায় এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়।

রবের অভিযোগ, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে এবং জাসদের প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে কারাবন্দি করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, কর্নেল আবু তাহেরের ভাই মোশাররফ হোসেন ও গণবাহিনীর নেতা সিরাজ শিকদারকে হত্যা করা হয়েছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় দেশে সাংবাদিকতা ও মৌলিক অধিকারও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে আবদুর রবের এসব বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ভিন্নমত রয়েছে। ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের অনেকেই মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক আলোচনা ছিল তৎকালীন জটিল পরিস্থিতির অংশ এবং তা স্বাধীনতার কৌশলগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সর্বশেষ সংবাদ

প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান, নাকি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সূচনা?

সুফি সাগর সামস বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের সংঘাতমুখী রাজনীতি, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে প্রতিশোধের সংস্কৃতি,...

শিরোনাম: চীন-মিয়ানমার করিডরে যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় চীনে পৌঁছাবে বাংলাদেশের পণ্য: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাকে করে বাংলাদেশ থেকে চীনে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী...

জাবির বাজেট ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা, গবেষণায় বরাদ্দ শূন্য

স্টাফ রিপোর্টার | জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট। শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায়...

বিশ্বকাপ জিতবে রোনালদোর পর্তুগাল’—ঘানার পুরোহিতের চাঞ্চল্যকর দাবি

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এক চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ঘানার আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব নানা কোয়াকু বোনসাম। তার দাবি, আগামী বিশ্বকাপে...

বিয়েতে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে অতিরিক্ত জনপ্রতি ১ হাজার টাকা ট্যাক্সের প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা: বিয়ের অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে অতিরিক্ত প্রত্যেক অতিথির জন্য এক হাজার টাকা করে সরকারি ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের...

জনপ্রিয় সংবাদ