নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করেছে এবং সরকার গঠনের জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। নির্বাচন শেষে জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থীরা ৭৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।
তবে ইতিহাসের এক অধ্যায় হিসেবে এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জাপা) একটিও আসনে জয় পায়নি। দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুর–৩ আসনে তৃতীয় হয়েছেন। সেখানে জামায়াতে ইসলামের মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শামসুজ্জামান শামু ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়েছেন। জাপার প্রার্থী মাত্র ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় পার্টির এই ভরাডুবি কেবল নির্বাচনের ফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। একসময় মধ্যবর্তী শক্তি হিসেবে পরিচিত এই দলটি এখন প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে অপ্রকাশিত সম্পর্ক এবং ভাঙা–গড়া নেতৃত্বের কারণে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে জাপা।
জাতীয় পার্টির অতীত নির্বাচনী ইতিহাসও এই পতনের ইঙ্গিত দেয়। ১৯৯১ সালে ৩৫টি আসন থেকে শুরু করে ২০০১ সালে ১৪ আসন, ২০০৮ সালে ২৮ আসন এবং ২০১৮ সালে ২২ আসন—ধীরে ধীরে দলের প্রাপ্ত ভোট ও আসনের সংখ্যা কমে এসেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে দলের আসন ছিল মাত্র ১১টি, ভোটের হার ৩ শতাংশের কাছাকাছি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন, নেতৃত্ব সংকট, সংগঠনের দুর্বলতা এবং পরিবর্তিত ভোটার মানসিকতা—এসব কারণেই এ বছর নির্বাচনে দলটির প্রার্থী একটিও আসনে জয়ী হতে পারেনি। উত্তরবঙ্গের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী অঞ্চলেও এরশাদের রাজনৈতিক প্রভাব ম্লান হয়েছে।
এবারের ফলাফলের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি রাজনীতিতে এক সময়ের ‘কিংমেকার’ অবস্থান হারিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলটি এখন নতুন নেতৃত্ব, স্বকীয় রাজনৈতিক স্ট্যান্ড এবং দৃঢ় সাংগঠনিক কাঠামোর অভাবে দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষমতার কেন্দ্রে আসার সম্ভাবনা কম।


