ইসতিয়াক মাহমুদ মানিক

মৌলভীবাজার জেলা, ২২ জানুয়ারি – বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার জেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে বৃহৎ নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন। তিনি দেশের নাগরিকদের উদ্দেশ্য করে ‘ধানের শীষ’ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে দলটির প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।
গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি
তারেক রহমান সমাবেশে বলেন, “দেশকে যদি বাঁচাতে হয়, গণতন্ত্রের সূচনা করতে হলে এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই, তাহলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।” তিনি জনগণকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপির অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করান এবং বলেন, শুধুমাত্র ধানের শীষই জনগণকে পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। সেই সময় সাধারণ মানুষ সরকারকে সমালোচনা করতে সক্ষম হয়েছিলেন, এবং কোনো গুম বা হত্যা ঘটেনি।
উন্নয়ন পরিকল্পনা ও যুব সমাজের ক্ষমতায়ন
তারেক রহমান ১৭ বছরের নির্বাসনের পর দেশে ফেরার পর নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুব সমাজ ও বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষিত বা অল্প শিক্ষিত যুবকদের দেশের ভেতরে ও বিদেশে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনে ট্রেনিং দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “যদি ট্রেনিং নিয়ে বিদেশে যান, তাহলে রোজগার বৃদ্ধি পাবে এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।”
ভোট চুরির অভিযোগ ও সতর্কতার আহ্বান
বিএনপি চেয়ারম্যান সমাবেশে অভিযোগ করেন যে, দেশের বর্তমান শাসকদল ভোট চুরির ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, “ফেসবুক, পত্রপত্রিকা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। ব্যালট পেপার নিয়ে প্রতারণার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।” তিনি উপস্থিত জনগণকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করেন এবং বলেন, এ ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে জনগণকে সচেতন হতে হবে।
‘৭১-এর ইতিহাস ও দলের অবস্থান
তারেক রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বর্তমান শাসকদলের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “যদি তারা তখন দেশের পক্ষেত থাকে, লক্ষ লক্ষ মানুষ শহীদ হতো না। ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না, মানুষ দেখেছে তাদের ভূমিকা।”
নিরাপত্তা ও প্রটোকলের বিষয়ে নির্দেশ
সমাবেশে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারের প্রটোকল তাদের জন্য আরও বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি জানান, জনগণ বিভ্রান্ত হলে ক্ষিপ্ত হতে পারে, তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
নির্বাচনী প্রচারণার পরবর্তী কার্যক্রম
তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা দুপুরে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে শুরু হয়ে মৌলভীবাজারে সমাবেশে শেষ হয়। এরপর তার পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ ও জনসভা করবেন।
মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি নাসের রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি প্রার্থীরাও বক্তব্য দেন। সমাবেশে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।


