অনলাইন ডেস্ক

ঢাকার সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে স্বতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার।
অধ্যাদেশ অনুমোদনের খবরে ঢাকা কলেজের সামনে অবস্থানরত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর দুইটার দিকে খবরটি জানাজানি হতেই শিক্ষার্থীরা ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সফল পরিণতিতে অনেক শিক্ষার্থীকে আনন্দে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা যায়।
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন,
“আমাদের দেড় বছরের আন্দোলন আজ সফল হয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টা নিজেই আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন যে উপদেষ্টা পরিষদে আমাদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনুমোদন হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ব্যবস্থার জটিলতা, প্রশাসনিক ধীরগতি ও একাডেমিক সমস্যার কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন তারা।
প্রসঙ্গত, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও মিরপুর বাংলা কলেজ—এই সাতটি সরকারি কলেজকে নিয়ে নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের আজকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, একাডেমিক স্বায়ত্তশাসন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছে এবং একটি প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বড় এক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।


