বাসস

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিভিন্ন পদে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক ভবনে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের একটি তিনজনের টিম, যা নেতৃত্বে ছিলেন সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে অভিযান শুরু করে।
দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অভিযানের সময় সায়েদ আলম জানান, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১৫ মাসে প্রায় কয়েকশ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, কিছু নিয়োগে স্বজনপ্রীতির সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক শামীমের কন্যাকে ফাইন্যান্স বিভাগে নিয়োগ, প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক কামালের কথিত ভাগ্নের নিয়োগ (যা তিনি অস্বীকার করেছেন) এবং ল্যাবরেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে রেজিস্ট্রার সাইফুলের ভাইয়ের নিয়োগ।
সায়েদ আলম বলেন, “আমরা রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে যাচাই করব যে নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো আইনানুগ ছিল কি না। এ মুহূর্তে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না যে নিয়োগগুলো বৈধ না অবৈধ। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে যে, ফার্সি ও বাংলা বিভাগে প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশ ছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এসব বিষয়ও আমরা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী পর্যালোচনা করব।”
তিনি আরও জানান, সবকিছু পর্যালোচনা শেষে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা দুদককে চবিতে স্বাগত জানিয়েছি। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতারের প্রশাসনের সময় কোনো প্রকার অনিয়ম হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যাবে না। আমরা চাই, দুদকের টিম প্রতিনিয়ত আসুক এবং স্বচ্ছতা যাচাই করুক।”
তিনি জানান, এই প্রশাসনের আমলে মোট ৩২১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে শিক্ষক ৭৮ জন, কর্মকর্তা ১৬ জন, ৩য় শ্রেণির কর্মচারী ৮৮ জন এবং ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী ১৩৯ জন। প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মচারী আগেই অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাদেরকে স্থায়ী করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “চবিতে আউটকাম বেসড এডুকেশন (ওবিই) পদ্ধতি চালু করতে গেলে অনেক বিভাগে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের প্রয়োজন হয়েছিল। তবে, এ পর্যন্ত যেসব নিয়োগ করা হয়েছে, তার কোনো একটি নিয়োগেও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যাবে না।”


