নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ৪ জানুয়ারি: বাংলাদেশ সরকার সমুদ্রভিত্তিক তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে ব্যবহৃত উৎপাদন অংশীদারি চুক্তি (পিএসসি) ২০২৫ চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার সংরক্ষণের দিক থেকে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, খসড়া পিএসসির সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে শ্রম আইন ও শ্রমবিধি সংশোধনের মাধ্যমে শ্রমিক মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল (ডব্লিউপিপিএফ) থেকে সমুদ্রভিত্তিক তেল-গ্যাস খাতকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় গঠিত পিএসসি পর্যালোচনা কমিটি এই বিষয়ে সুপারিশ করতে যাচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে। অথচ গতবারের অফশোর বিডিংয়ে বিদেশি কোম্পানিগুলো ডব্লিউপিপিএফ সংক্রান্ত বিষয় স্পষ্টভাবে পিএসসিতে উল্লেখ করার দাবি জানিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডব্লিউপিপিএফ বাদ দিলে শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘিত হবে এবং এটি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করবে।
ডব্লিউপিপিএফ ২০০৬ সালে আইন করে গঠিত হয়। এই তহবিলের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো তাদের লাভের একটি নির্দিষ্ট অংশ শ্রমিকদের কল্যাণে জমা দেয়। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, তহবিলের ১০ শতাংশ সরকারি শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে যায় এবং বাকি ৮০ শতাংশ কর্মচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে ৩০ শতাংশ আয়কর হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে যায়।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার জানিয়েছেন, ডব্লিউপিপিএফ বাদ দিলে শ্রমিকদের অধিকার ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে। এ আইন মেনে চলা প্রয়োজন, না হলে এটি শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী হবে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, ডব্লিউপিপিএফ পিএসসির বিষয় নয় এবং দেশের প্রচলিত আইন মেনে পিএসসি কার্যকর করা হবে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান এই আইন এড়িয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ মুনাফা বিদেশে পাঠায়, যার ফলে সরকার বৈধ রাজস্ব ও শ্রমিকদের ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
কমিটির প্রধান এবং বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, পিএসসি খসড়া আন্তর্জাতিক মানের, শ্রমিকদের সুবিধা বাদ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কমিটির প্রতিবেদন আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জমা দেওয়ার কথা।


