নিজস্ব প্রতিবেদক

শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু কোনো “দুঃখজনক ঘটনা” নয়, কোনো রাজনৈতিক সহিংসতা”র সাধারণ পরিসংখ্যানও নয়। হাদিকে হত্যা করা হয়েছে—এবং এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে রাষ্ট্র ব্যর্থভাবে নয়, কার্যত নির্বিকারভাবেই সুযোগ করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর পল্টনস্থ বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি কার্যালয়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত জরুরি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএইচপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুফি সাগর সামস্ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঢাকার ব্যস্ততম এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি, ঘাতকদের চিহ্নিত হওয়ার পরও নিরাপদে সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যাওয়া—এটি যদি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা না হয়, তবে আর কী? এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে, বাংলাদেশে আজ খুনিরা দ্রুততম সময়ে পালাতে পারে, কিন্তু ন্যায়বিচার বছরের পর বছর আটকে থাকে।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই,
যে রাষ্ট্র তার নাগরিককে প্রকাশ্যে হত্যা হতে দেয় এবং হত্যাকারীদের পালানোর পথ খুলে দেয়, সে রাষ্ট্র নিরপেক্ষ থাকতে পারে না। সে রাষ্ট্র অপরাধের অংশীদার হয়ে ওঠে।
বিএইচপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যন বলেন, আরও ভয়াবহ হলো—এই হত্যাকাণ্ডের পরও আমরা সেই পুরোনো চিত্রই দেখছি: কিছু গ্রেপ্তার, কিছু আশ্বাস, কিছু শোকবার্তা। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—ঘাতকেরা সীমান্ত পার হলো কীভাবে? কাদের ব্যর্থতা বা সহযোগিতায় তারা পালাল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না থাকলে সব তদন্তই প্রহসন।
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি মনে করে, ভিন্নমতকে বুলেট দিয়ে স্তব্ধ করার এই সংস্কৃতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার ফল। আজ হাদি, গতকাল অন্য কেউ, কাল হয়তো আরও একজন। এভাবেই একটি রাষ্ট্র ধীরে ধীরে তার বিবেক হারায়।
সুফি সামস্ বলেন, হাদির মৃত্যুর পর ছাত্রসমাজের রাজপথে নেমে আসা কোনো “উসকানি” নয়—এটি রাষ্ট্রের প্রতি অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ। তরুণরা আর আশ্বাসে বিশ্বাস করে না; তারা নিরাপত্তা চায়, বিচার চায়।
আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করছি,
এই হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীন তদন্ত ছাড়া কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
সীমান্ত দিয়ে পলায়নে জড়িত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দায় নির্ধারণ করতেই হবে।
রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে সহিংসতার যে অলিখিত লাইসেন্স চালু আছে, তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
রাষ্ট্র যদি আবারও এই হত্যাকে “সময় পেরোনো স্মৃতি” বানাতে চায়, তবে ইতিহাস একদিন প্রশ্ন করবে,
হাদিকে কে হত্যা করেছিল নয়, বরং কেন রাষ্ট্র তাকে বাঁচায়নি।
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি স্পষ্ট করে জানাচ্ছে,
এই রক্ত যদি বিচার না পায়, তবে তা কেবল হাদির রক্ত নয়; এটি রাষ্ট্রের নৈতিক পতনের দলিল হয়ে থাকবে।


