অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনাকে একটি পূর্ব-পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বৈঠকে অংশ নেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইনকিলাব মঞ্চের শীর্ষ নেতারা। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, শরিফ হাদির ওপর হামলা নির্বাচনের আয়োজনকে ব্যাহত করার একটি সিম্বলিক প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, “ষড়যন্ত্রকারীরা প্রশিক্ষিত শুটার ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক নিয়ে মাঠে নেমেছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে।”
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বৈঠকে বলেন, রাজনৈতিক পার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার ও এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলামও একইভাবে দলের মধ্যে ঐক্য ও বিরোধমূলক প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই কিছু মহল অভ্যুত্থানকে খাটো করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। মিডিয়া ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এসব অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের অনৈক্য ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে আমাদের পরাজয় হিসেবে দেখাচ্ছে। তাই দলগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বৈঠকে আরও বলেন, ভবিষ্যতের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাজনৈতিক বক্তব্য থাকবে, তবে কাউকে শত্রু ভাবা বা আক্রমণের সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও বলেন, রাজনৈতিক হানাহানি শুরু হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হয়েছে। তাই জাতীয় স্বার্থে দলগুলোকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়।


