বাসস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের যোগ্যতা–অযোগ্যতা নিরূপণ, নির্বাচনী ব্যয়ব্যবস্থাপনা, সময়সূচি ও প্রার্থিতা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে একাধিক পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী কোন ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এবং কোন ক্ষেত্রে অযোগ্য হিসেবে গণ্য হবেন—এ বিষয়ে এসব নির্দেশনায় সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ফেরারি বা পলাতক আসামি অযোগ্য
ইসির পরিপত্রে বলা হয়েছে, আরপিও ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১২(১)(কক) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি আদালত কর্তৃক ফেরারি বা পলাতক আসামি হিসেবে ঘোষিত থাকেন, তবে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এই অবস্থায় মনোনয়নপত্র দাখিলের পূর্বেই তার বিরুদ্ধে থাকা ঘোষণাটি প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি হওয়া বাধ্যতামূলক।
লাভজনক সরকারি পদে থাকলে প্রার্থীতা অবৈধ
পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, অনুচ্ছেদ ১২(১)(গ) অনুসারে কেউ যদি প্রজাতন্ত্রের কোনো দায়িত্বপূর্ণ বা লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন—যেমন সরকার, সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ, বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কোনো পদ—তবে তিনি পদত্যাগ না করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। মনোনয়ন দাখিলের আগে এর প্রমাণস্বরূপ যথাযথ পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে।
ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রার্থীতা অযোগ্য
এছাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে অনুচ্ছেদ ১২(১)(ড) উল্লেখ করে যে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কোম্পানির পরিচালক বা কোনো ফার্মের অংশীদার হন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ বা তার কিস্তি মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখের পূর্বে পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তবে তিনিও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। অর্থাৎ, ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান বা তার পরিচালকের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাতিলের বিধান কার্যকর হবে।
স্বচ্ছ প্রার্থীতা নিশ্চিতের লক্ষ্য
ইসি জানায়, আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে যাচাই করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ে ব্যাংক, আদালত, দুদক, এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট তথ্য গ্রহণ করে তা নিশ্চিত করতে হবে।
ইসি আশা করছে, এসব বিধি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সম্পর্কে ভোটারদের আরও স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া হবে আরও গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক।


