
অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় স্টেডিয়ামে এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশ এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের মঞ্চে প্রতিবেশী ভারতকে হারিয়ে আক্ষেপের দীর্ঘ ২২ বছর ঘোচালো। মাত্র একমাত্র গোলে (১–০) জয় পায় বাংলাদেশ, এবং সেই জয় এনে দেয় আলোচিত মিডফিল্ডার শেখ মোরসালিন।
ম্যাচের মাত্র ১১ (কিছু রিপোর্টে ১২) মিনিটে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। গোলটি আসে রাকিব হাসানের বাঁ দিক থেকে দেওয়া ক্রস থেকে, যেখানে মোরসালিন দমনাত্মকভাবে বলটি চিহ্নিত ও মৃত কর্ণারে ঠেলে দিয়ে গোল করেন। ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রত সিং সান্ধু চেষ্টা করলেও সেই শট সামলাতে ব্যর্থ হন।
প্রথমার্ধে আরও একটি সুযোগ তৈরি করে হামজা চৌধুরী, কিন্তু তার শট গোলবারের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ম্যাচে উত্তেজনাও ছিল — প্রায় ৩৪ মিনিটে তপু বর্মণ এবং ভারতের বিক্রমের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়, যার ফলশ্রুতিতে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
দ্বিতীয়ার্ধে ভারত বেশ আক্রমণাত্মক ছিল; তবে বাংলাদেশ রক্ষা-রেখায় দৃঢ় ছিল এবং তাদের আক্রমণ “জীবন্ত” রাখে। ম্যাচে প্রায় ৭৮ মিনিটে ভারত একটি শট নিলে, তবে সেটি গোলহ করতে পারেনি। এছাড়া ৮৩ মিনিটে ভারত পক্ষ থেকে পেনাল্টি দাবী উঠে তার কারণ ছিল ডি-বক্সে ডিফেন্সারের হাত লাগা বল — কিন্তু রেফারি সেই আবেদনে সাড়া দেননি।
এই জয় বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ ভারতের বিরুদ্ধে তারা ২২ বছর পর জিততে সক্ষম হয়েছে। শেষবার তারা ভারতকে হারিয়েছে ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সেমিফাইনালে। যদিও এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের দলে তাদের কোয়ালিফাই করার সম্ভাবনা আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, তবুও এই জয় ছিল মর্যাদার লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর একটি বড় মুহূর্ত।
সাংবাদিকদের মতে, জয় শুধুমাত্র ফল নয় — এটি ছিল ফুটবল-প্রশ্নে জাতীয় গর্ব ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতীক। কোচ হাভিয়ের কাবরেরা আক্রমণাত্মক ভাবনা এনেছিলেন, বিশেষ করে যেয়ে রোধাত্মক খেলায় বল দখল রাখে দল এবং ঠিক সময়ে কাউন্টার আক্রমণ ঘোরায়।
হামজা চৌধুরী রক্ষা-রেখায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন; তার পারফরম্যান্স রক্ষা-ভাগে শ্রেষ্ঠ বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। গ্যালারিতে ছিল ভির নর্থ এবং উত্তেজনায় ভরা ইউনিয়ন — বাংলাদেশ সমর্থকরা ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে তাদের টিমকে উৎসাহ দেন।
এই জয় কেবল ‘একটি ম্যাচ জেতা’ নয়; এটি ছিল বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য একটি মানসিক উজ্জীবন। দীর্ঘদিনের জয়ের শুষ্কতা ও ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই ফলাফল নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। যদিও বাছাই পর্বে তাদের কোয়ালিফাই করার আশা শেষ হয়ে গেছে, তবুও এই জয় জাতীয় দলে বিশ্বাস ও গর্ব ফেরাতে সক্ষম হয়েছে।


